প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে একের পর এক জটিলতা উঠে এসেছে। তার উপর রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অভিযোগের অন্ত নেই। প্রায় অভিযোগ উঠে আসছে যে রোগী বেড না পেয়েই মেঝেতে কোনরকমে শুয়ে আছে। তাই কলকাতার হাসপাতালগুলিতে বেড না পাওয়ার সমস্যা নিয়ে হাইকোর্টে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। এবার সেই মামলায় রাজ্য সরকারকে বড় নির্দেশ দিল হাইকোর্টের (Calcutta High Court) ডিভিশন বেঞ্চ।
৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, কলকাতার হাসপাতালগুলিতে বেড না পাওয়ার সমস্যা নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। বেঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারকে প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের প্রতিটা বিভাগে বেডের বর্তমান পরিস্থিতি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে, কোনও মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটাছুটির আগেই তাঁর পরিজনরা নিজের ফোনে, অনলাইনেই দেখে নিতে পারবেন কোথায় কতটা জায়গা রয়েছে।
কেন এই নির্দেশ?
রাজ্যের হাসপাতালগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করে আদালত। হাইকোর্টের মতে বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে বেড খালি থাকে না, সেই সময় সংকটজনক অবস্থায় অন্য হাসপাতালে ছুটতে হয় রোগীকে নিয়ে। এতে রোগীর স্বাস্থ্যের ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। তাই এই সঙ্কট কাটাতেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন বলে মনে করছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। জানা গিয়েছে ৩০ দিন পরে এই মামলার শুনানি হবে।
আরও পড়ুন: কলকাতায় তাপমাত্রা বাড়লেও দক্ষিণবঙ্গে ফের নামবে পারদ, ৫ জেলায় শীতের আভাস, আজকের আবহাওয়া
এর আগে করোনাকালে কোন হাসপাতালে কত বেড ফাঁকা রয়েছে এ বিষয়ে স্বচ্ছতা আনতে ‘ডিসপ্লে বোর্ড’ করার দাবি করেছিল চিকিৎসক সংগঠনগুলি। সেই সময় বিভ্রান্তি কাটাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট ইনফর্মেশন সিস্টেম পোর্টালে সেই সকল তথ্য তুলে ধরত। কোন হাসপাতালে কত বেড ফাঁকা আছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য আপডেট করা হতো। কিন্তু করোনাকালের পরে সেই সিস্টেম ক্রমশ অকেজো হয়ে যায়। তাই পুনরায় সেটি চালুর নির্দেশ দিল আদালত।