সৌভিক মুখার্জী, বর্ধমান: এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক যেন দিনের পর দিন বাড়ছে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বর্তমানে শুনানি পর্ব চলছে। তবে সেই শুনানিকে কেন্দ্র করে এবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছে, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের নাম করে সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি আর হেনস্থা করা হচ্ছে। সেই অভিযোগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বর্ধমান স্টেশনে (Barddhaman Junction Railway Station) ব্যাপক বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন স্থানীয়রা। যার জেরে ব্যাহত হয় রেল চলাচল।
বর্ধমান স্টেশনে রেল অবরোধ
সূত্রের খবর, এদিন এসআইআর প্রক্রিয়ায় হয়রানির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে রেল লাইনের উপর শুয়ে অবরোধ করেন। এর ফলে বেশ কিছু ট্রেন আটকে পড়ে। এমনকি চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় নিত্য যাত্রীদের। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এসআইআর এর নামে যে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। অভিযোগ উঠছে, ২০০২ সালের আগেও যারা ভোট দিয়েছেন, এমনকি যাদের নাম ২০০২ এর লিস্টে ছিল, তাদেরকেও নতুন করে হিয়ারিং এর জন্য ডাকা হচ্ছে। যারা নিয়মিত ভোট দিয়ে এসেছেন, তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা অপমানজনক।
এদিকে শুধুমাত্র পূর্ব বর্ধমান নয়, বরং এসআইআর ইস্যুতে উত্তাল হয়েছিল উত্তর দিনাজপুর। বৃহস্পতিবার চাকুলিয়া এলাকায় শুনানির নোটিশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। এমনকি চাকুলিয়া বিডিও অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। আর পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ইসলামপুর পুলিশ জেলাসহ পার্শ্ববর্তী সমস্ত এলাকায় এলার্ট জারি করা হয়। এমনকি এই ঘটনার একদিন পরেও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বজায় ছিল।
আরও পড়ুন: রবিবার থেকেই ঘুরে যাবে আবহাওয়ার খেলা, দক্ষিণবঙ্গে শীত নিয়ে মেগা আপডেট
তবে এ বিষয়ে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে চূড়ান্ত ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তাদের মূল দাবি, কোনও অতিরিক্ত শর্ত ছাড়া প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, এবং যাদের নাম আগে থেকে ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাদের অপরিবর্তিত রাখতে হবে। পাশাপাশি হিয়ারিং এর নামে দূরবর্তী জায়গায় ডেকে হয়রানি বন্ধ করতে হবে।