সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের উন্নয়নে এখন সবথেকে বড় সমস্যা বায়ুদূষণ (Air Pollution)। চোখের না দেখা গেলেও প্রতিদিন নিঃশব্দে কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ। আর এই ভয়াবহ বাস্তবতার রিপোর্ট তুলে ধরা হল এবার বিশ্ব অর্থনীতির মঞ্চে। হ্যাঁ, প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতা গোপীনাথ সম্প্রতি এই সম্পর্কে একটি রিপোর্ট পেশ করেছেন। সেখানে জানা গিয়েছে, বছরে নাকি বায়ুদূষণের কারণে ১৭ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪৬৫৭ জন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন এই বায়ুদূষণের কারণে।
স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ধাক্কা লাগছে অর্থনীতিতেও
এদিকে গীতা গোপীনাথ বলেছেন, আমরা ব্যবসা-বাণিজ্য, শুল্ক, নিয়ম কানুন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রচুর আলোচনা করি। তবে দূষণ নিয়ে খুব একটা কথা হয় না। অথচ এর অর্থনৈতিক প্রভাব এতটাই গভীর যে তা শুল্ক, বাণিজ্য সংকটের দিক থেকেও বেশ ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ এখন শুধুমাত্র পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২২ সালের বিশ্বব্যাঙ্কের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে বছরে প্রায় ১৭ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এই বায়ুদূষণের কারণে, যা দেশের মোট মৃত্যুহারের প্রায় ১৮ শতাংশ। আর ভারতের ১৪০ কোটি মানুষই ক্ষতিকর PM2.5 কণার সংস্পর্শে আসছে। এমনকি অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বছরে প্রায় ৩৬.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতের মোট জিডিপির ১.৩৬ শতাংশ।
আরও পড়ুন: নিম্নমুখী তাপমাত্রা নাকি চড়া রোদ! বিদায় বেলায় কোন রূপ নেবে শীত? আগামীকালের আবহাওয়া
উত্তর ভারতে ভয়াবহ পরিস্থিতি
বিশেষ করে ভারতের উত্তর দিকের বিস্তীর্ণ অংশ, দিল্লি এনসিআর অঞ্চল এবং আশেপাশের রাজ্যগুলিতে শীতকালে বায়ু দূষণ চরম আকার ধারণ করে। এতে করে AQI বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছয়, যার প্রভাব পড়ে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ এবং অসুস্থ মানুষের উপর। তবে বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, কয়লা পোড়ানোর কারণে বছরে প্রায় ৪ লক্ষ মৃত্যু হচ্ছে, জৈব জ্বালানির ক্ষেত্রে প্রায় ৩.৫ লক্ষ, ফসিল ফুয়েলের কারণে মোট ৭.৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এর পাশাপাশি যানবাহনের ধোয়া, শিল্প কলকারখানা তো রয়েছেই।