বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হঠাৎ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমালো ভারত। এমনটাই দাবি করছে ওপার বাংলার সংবাদমাধ্যম যুগান্তর। যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, বিগত কিছু দিনে ভারত নাকি বাংলাদেশে 427 মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে (Power Crisis In Bangladesh)। শুধু তাই নয়, ভারতীয় সংস্থা আদানি গ্রুপের 1600 মেগাওয়াটের একটি ইউনিটে মেরামতির কাজ হওয়ায় সেটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এদিকে গোটা বাংলাদেশ পর্যাপ্ত ফার্নেস অয়েল মজুত করা নেই। সবমিলিয়ে, ভারত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় নাকি বিরাট প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। শীতের আবহে প্রায়শই সন্ধ্যায় লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে ওপারে।
বিদ্যুৎ সংকটে বাংলাদেশ?
যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীতের আবহে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পিক টাইমে লোডশেডিং দেখা দিয়েছে বাংলাদেশে। যদিও এর প্রভাব পড়েনি ঢাকায়। এ নিয়ে, সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেরই দাবি, ভারতীয় সংস্থা আদানি গ্রুপের 1600 মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে একটি অর্থাৎ 800 মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতের জন্য আপাতত বন্ধ রয়েছে। গত 16 জানুয়ারি থেকে এই ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিগত কয়েকদিনে নাকি ভারত থেকে বেসরকারিভাবে পাঠানো 900 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থেকে মাত্র 473 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বাংলাদেশকে। আর তাতেই বিরাট বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে ওপারে।
কেন বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানো হলো?
সাম্প্রতিককালে হঠাৎ করে ভারত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি বাংলাদেশ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্যরা। এ প্রসঙ্গে ওপার বাংলার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য মহম্মদ জাহিরুল ইসলাম যুগান্তরের সাথে কথা বলার সময় জানিয়েছিলেন, “যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিলে তবেই ভারত বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কিছুটা কমিয়ে দেয়। হয়তো সে কারণেই ফের বিদ্যুৎ রপ্তানি কমানো হয়েছে।” তবে এর সুস্পষ্ট কারণ জানাতে পারলেন না তিনি।
ভারত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয় নিয়ে মুখ খুলে ছিলেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মহম্মদ ফাওজুল কবির খান। তবে, ঠিক কোন কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হলো তা নিয়ে কিছুই জানাতে পারেননি তিনিও। তাঁর কথায়, “ভারত কেন বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিল তার কারণ জানা যায়নি। আমরা খোঁজ চালাচ্ছি।” বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই মনে করছেন, ভারত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই ধারা আগামীতে বজায় থাকলে গরমে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে। তাতে ভোগান্তির শেষ থাকবে না বাংলাদেশবাসীর।
অবশ্যই পড়ুন: পাকিস্তান T20 বিশ্বকাপ না খেললে এই দেশকে সুযোগ দিতে পারে ICC
উল্লেখ্য, আদানি সূত্রে যা খবর, বাৎসরিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গত 15 জানুয়ারির পর থেকে 1600 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি 800 মেগাওয়াটের ইউনিট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। মেরামত সহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হয়ে গেলে আসন্ন ফেব্রুয়ারির 9 তারিখ ফের এই ইউনিট খুলে দেওয়া হবে। তারপরই হয়তো আগের মতোই বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ, আপাতত এমনটাই আশা বাংলাদেশের একটা বড় অংশের।