বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দেব থেকে শুরু করে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তীদের পর এবার SIR শুনানিতে ডাক পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য। আর নোটিস পেতেই একেবারে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তৃণমূলের যুব নেতা (WB SIR Hearing)। তাঁর মন্তব্য, “ভারতীয়ত্ব প্রমাণের ডাক এলো অবশেষে। তৃণমূল সমর্থকদের প্রোফাইল ট্রাক করা হচ্ছে। তারপরই সেটা বিজেপি তুলে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশনের হাতে। সবটাই তৃণমূল সমর্থকদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত।” বলাই বাহুল্য, রবিবার তৃণমূলের ছাত্র নেতার পাশাপাশি শুনানিতে ডাক পেয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজাও।
শুনানির নোটিস পেতেই ক্ষোভ আটকে রাখতে পারলেন না দেবাংশু
ইতিমধ্যেই রাজ্যের বহু মানুষ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য SIR শুনানিতে ডাক পেয়েছেন। নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য শুনানিতে ডাকা হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ শামিকেও। সেই মতোই নিজের কেন্দ্রে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে হাজিরা দিয়ে এসেছেন তিনি। এদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, বেছে বেছে দলীয় নেতাকর্মী এমনকি ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের SIR এর শুনানির জন্য ডেকে পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার, শুনানির নোটিস পেতেই একই সুর চড়ালেন তৃণমূলের যুবনেতা দেবাংশুও।
শুনানির জন্য ডাক পেতেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে সে কথা ভাগ করে নিয়েছেন দেবাংশু। তৃণমূল লিখেছেন, “ভারতীয়ত্ব প্রমাণের ডাক এল শেষমেষ!” আর তারপরই রাজ্য জুড়ে চলা SIR এর শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে এক প্রকার ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে দেবাংশু জানালেন, “আমাকে 27 জানুয়ারি শুনানির জন্য ডেকেছে। তবে আমি একা নই, আমার দিদি সহ পরিবারের 4 জনকে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ডাকা হয়েছে। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, আমার কাকু কাকিমা এবং বাবা-মা প্রত্যেকেরই 2002 সালের তালিকায় নাম ছিল। সেই সূত্রেই আমাদের বৈধতা আছে। তাই 58 লাখের তালিকায় আমাদের নাম আসেনি।”
এদিন তৃণমূল নেতা এও বলেন, “আমার পরিবারে কারও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জায়গা নেই। মা বাবা, দিদি আমার প্রত্যেকের নামের বানান ঠিক আছে। বয়সের ক্ষেত্রেও কোনও অসঙ্গতি নেই। শিশিরবাবুর মতো কোনও কুমার ঢোকেনি মাঝে। চন্দ্রও ঢোকেনি। সব ঠিক আছে। তাও কেন এই নোটিস। আমি জানিনা।” এদিন গেরুয়া শিবিরকে এক হাত নিয়ে তৃণমূল নেতা বলেন, “বিজেপি পার্টিটা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ট্র্যাক করিয়ে তৃণমূল সমর্থকদের খোঁজার চেষ্টা করছে। তারপরই সেই তালিকা তুলে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশনের হাতে। এখন 10 জনের কাছে নোটিস গেলে তাদের মধ্যে 8 জনই তৃণমূল। আসলে তৃণমূল সমর্থকদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে চাইছে ওরা।”
অবশ্যই পড়ুন: মুহুর্মুহু লোডশেডিং! হঠাৎ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিল আদানি
উল্লেখ্য, রবিবার, SIR শুনানির জন্য ডাক পেয়েছেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজাও। শ্যামপুকুর বিধানসভার বিধায়ককে কেশব অ্যাকাডেমিতে গিয়ে হাজিরা দিতে হবে। তবে তার আগে, SIR শুনানির নোটিস পেতেই ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলের মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “2002 সালের তালিকায় আমার নাম রয়েছে। এদিকে নোটিসে বলা হচ্ছে আমি আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের কোনও তথ্য দিইনি। আমি আমার প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে যাব। সমস্যাটা নির্বাচন কমিশনের। আমার যখন 2002 এর তালিকায় নাম আছে তাহলে আমাকে কেন আবার নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। এই ঘটনা সত্যিই অসম্মানজনক।”