শর্ট সার্কিট না গাফিলতি? ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আনন্দপুরের মোমো কারখানায়, নিখোঁজ ৩ কর্মী 

Massive Fire At Momo Factory

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোররাতে শহরে ফের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড। জানা গিয়েছে, রুবির আরবানার পিছনে একটি ব্রান্ডেড মোমো ও কেক প্রস্তুতকারক সংস্থার ওয়ারহাউসে আগুন (Massive Fire At Momo Factory) লাগে। ভিতর একাধিক দাহ্য বস্তু থাকায় নিমেষেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন। নিখোঁজ কারখানার কর্মরত তিন কর্মী। শেষ আপডেট অনুযায়ী সকাল হয়ে গেলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে দমকলকর্মীদের।

ঠিক কী ঘটেছিল?

স্থানীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ আনন্দপুরে রুবির আরবানার পিছনে একটি ব্রান্ডেড মোমো ও কেক প্রস্তুতকারক সংস্থার ওয়ারহাউসে আগুন লাগে। যেহেতু কারখানায় প্রচুর পরিমাণ পাম তেল ও গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ছিল, সেক্ষেত্রে আগুনের তীব্রতা ভয়াবহ রূপ নেয় মুহূর্তেই। রীতিমত ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে মোমো কারখানা। এদিকে আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন পৌঁছয়। কিন্তু দমকলকর্মীরা জানাচ্ছেন, আগুনের লেলিহান শিখা এতটাই ভয়ংকর হয়ে উঠেছে যে এখনও পর্যন্ত তাঁরা মূল জায়গায় পৌঁছতেই পারেননি অর্থাৎ আগুনের উৎসস্থল পর্যন্ত যাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ ৩ কর্মী

সূত্রের খবর, আগুন লাগার সময় মোমো কারখানায় নাইট ডিউটিতে তিনজন কর্মী ছিলেন। এখন তিনজনেরই কোনও খোঁজ নেই। নিখোঁজ কর্মীদের মধ্যে একজন হলেন পঙ্কজ হালদার। তিনি আগুন লাগার পর স্ত্রীকে ফোন করে বলেন, “আর বাঁচব না”। কিছু সময় পর থেকে পঙ্কজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ আসে। এখন চরম উদ্বেগে কারখানার বাইরে দাড়িয়ে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে একজনের ফোন বেজে যাচ্ছে, তিনি ধরছেন না। এইমুহুর্তে তাঁরা ভিতরে আটকে আছেন না পালিয়ে গেছেন আগুন লাগার সময়, তা বোঝা যাচ্ছে না।

কীভাবে আগুন লাগল?

মোমো তৈরির কারখানায় কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে পুলিশের প্রাথমিকভাবে অনুমান, ইলেকট্রিক লাইন বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। তাই স্থানীয় পুলিশের তরফে এখনও আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই মোমো কারখানার আশেপাশেই অধিকাংশ কারখানা-ওয়ারহাউসই বন্ধ ছিল। যেহেতু এই কারখানাগুলির ভিতরে প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল, তাই সেখান থেকে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এবং এক ভয়ংকর রূপ নেয়। এদিকে স্থানীয়রা আগুন লাগার বিষয়টি নিয়ে মালিক কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, আগেও ছোটখাটো আগুন লেগেছিল, বার বার জানানো হয়েছিল, কিন্তু কেউ কিছুই তোয়াক্কা করেনি। আজ এত বড় বিপদ হয়ে গেল!

আরও পড়ুন: শুভ্রাংশু শুক্লাকে অশোক চক্র, প্রজাতন্ত্র দিবসে সোফিয়া কুরেশি পাচ্ছেন বিশিষ্ট সেবা পদক

প্রসঙ্গত, মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার এক কর্মী গোটা ঘটনার সম্পূর্ণ দোষ চাপান এক ডেকরেটার্স সংস্থার উপর। তাঁর বক্তব্য, কারখানাটির পাশেই মর্ডান ডেকরেটার্স সংস্থার সরঞ্জাম রাখা হত। বহুবার না কি তাঁদের বলা হয়েছে ওসব সরানোর জন্য কারণ কারখানায় দাহ্য বস্তু থাকে। আগুন লাগলে বিপদ হতে পারে। কিন্তু ওই সংস্থার মালিক কথা শোনেননি। যদিও এই বিষয়ে মর্ডান ডেকরেটার্স সংস্থার তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

Leave a Comment