বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সুতো নিয়ে মহাসঙ্কটে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। জানা গিয়েছে, সুতো আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কে বাংলাদেশ যে বিপুল ছাড় দিয়ে থাকে তা নিয়ে এবার ডুবতে চলেছে ওপার বাংলার সুতোশিল্প (Bangladesh Textile Industry)। ওপার বাংলার শিল্প সংগঠন গুলির বক্তব্য, শুধু আমদানিতে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার কারণেই বিরাট সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় সুতো ব্যবসায়ীরা। বন্ধ হওয়ার পথে কারখানাগুলি। মূলত সে কারণেই, সুতো আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক ছাড় বন্ধ করার দাবিকে সামনে রেখে আগামী 1 ফেব্রুয়ারি থেকে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে স্পিনিং ইউনিট শাটডাউনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশের টেক্সটাইল মিলগুলির মালিকরা। এক কথায়, বড় ধাক্কার মুখে ওপার বাংলার সুতোশিল্প।
শুল্ক ছাড় বন্ধের দাবিতে ইউনূস প্রশাসনকে চাপ শিল্পপতিদের!
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, দিন দিন ওপার বাংলায় তৈরি স্থানীয় স্পিনিং মিলে বানানো সুতোর চাহিদা কমছে। তার অন্যতম কারণ সরকারের সুতো আমদানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্কের সুবিধা। বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পপতিদের বক্তব্য, এ মাসের মধ্যেই বন্ডেড ওয়্যারহাউস সিস্টেমে সুতো আমদানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক বা বিনাশুল্কের সুবিধা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে ভারত অথবা চিনের উপরেই ভরসা করে থাকতে হবে। স্থানীয় মিলে তৈরি সুতোগুলোই বর্তমানে কেউ আর কিনতে চাইছে না। এর ফলে আগামী দিনে বিরাট সঙ্কট দেখা দিতে পারে বাংলাদেশে। তাই যত দ্রুত সম্ভব সুতো আমদানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্কের সুবিধা বন্ধের জন্য ইউনূস প্রশাসনকে একপ্রকার চাপ দিচ্ছেন শিল্পপতিরা।
বাংলাদেশের সুতোশিল্পের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের খুব পরিষ্কার দাবি, সুতির বস্ত্র তৈরির জন্য ভারতের সুতোর উপরেই ভরসা করে থাকতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে পলিস্টারের কাপড়ের জন্য রয়েছে চিন। সরকারের শূন্য শুল্কের সুবিধা নিয়ে ভারত সহ অন্যান্য দেশগুলি থেকে বিদেশি সুতো আমদানি করতে হচ্ছে। তাতে দিনের পর দিন মার খাচ্ছে দেশের টেক্সটাইল মিলগুলি। তাই স্থানীয় সুতো শিল্পকে বাঁচাতে এবং বাংলাদেশকে আগামীতে সঙ্কট মুক্ত করতে যত দ্রুত সম্ভব সুতো আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কে বা ট্যাক্স ছাড়ের নিয়ম বন্ধ করতে হবে।
অবশ্যই পড়ুন: ১০ হাজার হয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার, খেল দেখিয়েছে ৫০ পয়সার এই স্টক
প্রসঙ্গত, দেশের বস্ত্র শিল্পকে বাঁচাতে এবং স্থানীয় টেক্সটাইল মিলগুলিকে সচল রাখতে টেক্সটাইল শিল্প মালিকরা যে দাবি করেছিলেন সেই দাবিতে ইতিমধ্যেই সায় দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর কাছে চিঠি লিখেছে মহম্মদ ইউনূসের সরকার। অনেকেরই আশা, সরকার আসরে নামলে এ যাত্রায় হয়তো বেঁচে যাবে দেশের শতাধিক টেক্সটাইল মিল। বেকার হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবেন বহু মানুষ।