৯ ঘণ্টায় বিনামূল্যে ২২ রোগীর শরীরে পেসমেকার বসানো ডঃ সরোজ মণ্ডল পেলেন পদ্মশ্রী

Doctor Saroj Mandal

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সাহিত্যিক, গবেষক, সঙ্গীতজ্ঞ, তাঁতশিল্পী, নাট্যকার থেকে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সব মিলিয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট ১১ জন পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হতে চলেছেন। সম্প্রতি প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ২০২৬ সালের পদ্ম পুরস্কার প্রাপকদের তালিকা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, আর সেই তালিকায় এবার নাম উঠে এল বিশিষ্ট হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর সরোজ মণ্ডলের (Doctor Saroj Mandal), যিনি কিনা প্রচারের আলো ছাড়াই গড়ে তুলেছিলেন এক ইতিহাস। মাত্র ৯ ঘণ্টায় ২২ জন রোগীর শরীরে পেসমেকার বসিয়ে নজির গড়েছেন এই চিকিৎসক।

৯ ঘণ্টায় ২২ জন রোগীর জীবন বাঁচিয়েছেন!

চিকিৎসা শাস্ত্রে, অন্যতম এক উল্লেখযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল ২০২৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন এসএসকেএম হাসপাতালের কার্ডিয়োলজি বিভাগে মাত্র ন’ঘণ্টায় এক দিনে ২২ জন রোগীর শরীরে সফলভাবে পেসমেকার বসিয়েছিলেন বিশিষ্ট হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর সরোজ মণ্ডল। ওইদিন সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ সরোজ মণ্ডলের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল কাজ শুরু করে। এক জন রোগীর শরীরে পেসমেকার বসানোর কাজ চলার মধ্যেই পরের জনকে অ্যানাস্থেশিয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ শেষ হয় শেষ অস্ত্রোপচার। তবে তবে তাঁর কোনো রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনা ছিল না, লক্ষ্য ছিল রোগীর জীবন বাঁচানো।

বিনামূল্যে বসানো হয়েছিল ২২ টি পেসমেকার

জানা গিয়েছে রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল SSKM-এ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়ায় ওই ২২টি পেসমেকারই রোগীদের দেওয়া হয়েছিল বিনা খরচে। জানা গিয়েছে ওই ২২টি প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল ১৪টি ডাবল চেম্বার পেসমেকার, দুটি আইসিডি এবং বাকিগুলি সিঙ্গল চেম্বার পেসমেকার ছিল। এই গোটা প্রসেসে চিকিৎসক সরোজ মণ্ডলের সঙ্গে এই কাজে যুক্ত ছিলেন চিকিৎসক কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, শিনাথ সিং, আদিত্য ভার্মা ও আর. ভিগনেশ। সহকর্মীর এই হেন সাফল্যে সকলেই বেশ খুশি।

আরও পড়ুন: ব্যাঙ্কের লকারে সোনা রেখে নিশ্চিন্তে রয়েছেন? RBI যা জানাল, ভাবতে হবে দশবার!

কী বলছেন চিকিৎসক?

পদ্মশ্রীর জন্য নির্বাচিত হওয়ায় খুব খুশি চিকিৎসক সরোজ মন্ডল। তিনি বলেন, “৩০ বছরের ওপর আমি ফিল্ড অফ মেডিসিনে কাজ করছি। বেশিরভাগ কাজটাই আমি গরিব ,দরিদ্র মানুষের জন্য করেছি। সবচেয়ে সৌভাগ্যের বিষয় হল আমি বাংলার মানুষের জন্য কাজ করতে পেরেছি। তাই এই সম্মান আমি আমার সকল রোগীদের উৎসর্গ করলাম। এই অ্যাওয়ার্ড আমার আরো বেশ কিছু সহকর্মীর পাওয়া উচিত যা তাদেরকেও উৎসাহিত করবে।”

Leave a Comment