বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ট্রেন লেট হওয়ার কারণে গোটা একটা বছর নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এক NEET পরীক্ষার্থীর। আর এই এক কারণে ভারতীয় রেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন ওই ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা সেই মামলায় ভোক্তা ফোরাম আদালত শিক্ষার্থীর অভিযোগ সত্য বলে মেনে নিয়েছে। সেই সাথে, ওই পরীক্ষার্থীর দাবি অনুযায়ী ভারতীয় রেলকে ট্রেন বিলম্ব এবং সে কারণে ওই শিক্ষার্থীর কেরিয়ারে প্রভাব পড়ায় মোটা অঙ্কের জরিমানা করেছে (Fine To Indian Railways)।
ঠিক কী ঘটেছিল?
সালটা 2018। উত্তরপ্রদেশের কোতোয়ালি থানার পিকাউড়া বক্সা এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী শ্রীমতী NEET পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরবর্তীতে নিয়ম মতো তাঁর পরীক্ষার সিট পড়ে লখনউয়ের জয় নারায়ণ পিজি কলেজে। জানা যায়, পরীক্ষা দিতে যাওয়ার জন্য ইন্টারসিটি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসের টিকিট কেটেছিলেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, নির্দিষ্ট স্টেশন থেকে ওই ট্রেনটির লখনউয়ে পৌঁছানোর কথা ছিল সকাল 11 টায়। তবে বেশ কিছু ত্রুটিগত কারণে ট্রেনটি নির্ধারিত সময় থেকে আড়াই ঘন্টা লেট ছিল। যার ফলে 11টার বদলে ওই পরীক্ষার্থী ট্রেনে চেপে লখনউ পৌঁছেছিলেন সাড়ে 12 টা নাগাদ।
জানা যায়, শুধুমাত্র ট্রেন লেট হওয়ার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে পারেননি ওই পরীক্ষার্থী। ফলে সেবারের মতো বাতিল হয়ে যায় তাঁর পরীক্ষা। এই ঘটনায় একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের ওই পড়ুয়া। পরবর্তীতে এক আইনজীবীর সাহায্য নিয়ে ভোক্তা ফোরাম আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। দীর্ঘ সময়ের পর অবশেষে পড়ুয়ার দায়ের করা মামলায় তাঁর পক্ষেই রায় দিয়েছে আদালত। এ নিয়ে, ভোক্তা কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারক অমরজিৎ বর্মা এবং সদস্য অজয় প্রকাশ সিং ওই পরীক্ষার্থীর পক্ষে রায় দেওয়ার পাশাপাশি রেলকে মোটা টাকা জরিমানা করেছেন।
অবশ্যই পড়ুন: ISL এ কবে মুখোমুখি হচ্ছে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান? প্রকাশ্যে কলকাতা ডার্বির তারিখ
কত টাকা জরিমানা করা হয়েছিল?
জেলা ভোক্তা কমিশন ওই পরীক্ষার্থীর পক্ষে রায় দিয়ে পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, ট্রেন লেট হওয়ার কারণে NEET পরীক্ষায় বসতে পারেননি পরীক্ষার্থী। এতে তাঁর কেরিয়ারের একটা বছর নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যার কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না। তবে ট্রেন বিলম্ব হওয়ার দায় রেলের। তাই ওই পড়ুয়াকে ক্ষতিপূরণ বাবদ 9 লাখ 10 হাজার টাকা দিতে হবে রেলকে। আদালত আরও জানায়, নির্দেশ মেনে রেল যদি ওই পরীক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ দিতে দেরি করে তবে সময়ের সাথে সাথে মোট জরিমানার উপর সুদ চাপবে। দুই বিচারক জানিয়ে দিয়েছেন, পড়ুয়াকে ক্ষতিপূরণ দিতে দেরি হলে রেলকে মোট জরিমানার উপর 12 শতাংশ সুদ দিতে হবে। দীর্ঘ 7 বছরেরও বেশি সময় কাটিয়ে অবশেষ সুবিচার মেলায় খুশি ভুক্তভোগী উত্তরপ্রদেশের ওই পড়ুয়া।