নন্দীগ্রামে হিন্দুদের বাড়ি, মন্দিরে ধ্বজা, মাইক, সিসিটিভি লাগানোর বার্তা! খরচ দেবেন শুভেন্দু

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নিবার্চনের সময় যত এগিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক পারদ চড়চড়িয়ে বাড়ছে। আর এদিকে ডায়মন্ড হারবারের মত নন্দীগ্রামেও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় মডেল বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এমন অবস্থায় নন্দীগ্রামের হিন্দুদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। হিন্দুদের উদ্দেশে একতার বিশেষ বার্তা দিলেন তিনি।

সমিতির ভোট ঘিরে তুমুল অশান্তি

গত রবিবার, নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের রানিচকে সমবায় সমিতির ভোট ঘিরে ব্যাপক ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ভোটের ফলাফল স্বরূপ জানা যায়, ৪৫ টি আসনের মধ্যে ২৮টিই জিতে গিয়েছে তৃণমূল। এরপরেই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি দুই শিবিরই একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। আর এই হামলার ঘটনায় অভিযোগ উঠে এসেছে যে তৃণমূলের আক্রান্তের কারণে বিজেপির লোকজন আক্রান্ত হন। আর সেই অভিযোগকে সামনে রেখে গতকাল অর্থাৎ সোমবার সেখানে যান শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের উদ্দেশে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে যায়।

হিন্দুদের উদ্দেশে কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু?

সোমবার, দলীয় কর্মীদের মারধর করার অভিযোগে নন্দীগ্রামের রানিচক গ্রামে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে নিরাপত্তা ও সংগঠন বিষয়ে একাধিক কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পরামর্শ দেন, মঙ্গলবারের মধ্যে নন্দীগ্রামের প্রতিটি হিন্দু বাড়িতে ধ্বজা লাগানো হোক এবং সব মন্দিরে মাইক ও সিসিটিভি বসানো হোক। এখানেই শেষ নয়, শুভেন্দু অধিকারী এও দাবি করেন যে, সিসিটিভি বসানোর জন্য কলকাতা থেকে সরঞ্জাম আনা হোক, সব খরচ তিনি নিজেই দেবেন। পাশাপাশি সমস্ত সিসিটিভির চিপ রাখা থাকবে বিধায়ক অফিসে। এছাড়াও এলাকাবাসীর মধ্যে শঙ্খ বিতরণ করার কথাও তিনি বলেন।

আরও পড়ুন: SIR-র কারণে মৃতদের পরিবারকে নিয়ে দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, যাবেন কমিশনের দফতরেও

প্রসঙ্গত, রবিবারের ঘটনায় যে সব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়েও সহযোগিতা করার কথা বলেছেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, শুভেন্দুর এই বার্তা ধর্মীয় বিভাজনকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিতকুমার রায় বলেন “এই ধরনের মন্তব্য আসলে ধর্মীয় ভেদাভেদ তৈরি করে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা। এদিক থেকে তৃণমূল সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাসী এবং মনুষ্যত্বই দলের কাছে সবার উপরে।”

Leave a Comment