India Hood Decode: বেলডাঙ্গার আসল গল্প, যা দেখাচ্ছে না বাংলার মেনস্ট্রিম মিডিয়া

Murshidabad Unrest Story
Murshidabad Unrest Story

কোথাও রেললাইনে জড়ো করা হচ্ছে পাথর, কোথাও উপড়ে ফেলা হচ্ছে সিগন্যাল পোস্ট! কখনও ভাঙচুর চলছে রেলগেট, তো কখনও ভাঙচুর চলছে থানা! কোথাও বাসের ওপর ছোঁড়া হচ্ছে পাথর, তো কোথাও পুলিশের গাড়িতে! এমনকি মারধর করা হচ্ছে মহিলা সাংবাদিক থেকে শুরু করে, ক্যান্সার আক্রান্ত ক্যামেরাম্যানকেও!

মুর্শিদাবাদ দাঙ্গার (Murshidabad Unrest Story) এক বছর পেরোতে না পেরোতেই, ফের হিংসার আগুনে জ্বলে উঠল মুর্শিদাবাদ! প্ল্যান ছিল ২০২০-র ট্রেন জ্বালানোর মতোই রেল স্টেশন জ্বালিয়ে দেওয়া!

কিন্তু, ঠিক কি কারণে হঠাৎ করে অশান্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদ? সত্যিই কি পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু, নাকি অন্য কিছু? কার ষড়যন্ত্রে আবার অশান্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদ? অশান্ত বেলডাঙ্গার আসল মাস্টারমাইন্ড কে? কেনই বা তাকে ধরতে পারছে না বাংলার পুলিশ? আর বারবার মুর্শিদাবাদেই কেন হয় এমন ধরনের হিংসা?

আজ India Hood ডিকোডে আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, এমন কিছু সত্য যা আপনাদের সামনে আনছে না বাংলার বেশ কিছু মেনস্ট্রিম মিডিয়া! তাই শেষ পর্যন্ত ভিডিওটি দেখুন, আর আপনি যদি আমাদের চ্যানেলটিকে এখনও পর্যন্ত সাবস্ক্রাইব না করে থাকেন তাহলে ঝটপট ক্লিক করে ফেলুন সাবস্ক্রাইব বাটনে। আর টিপে দিন বেল আইকনটি।

১৬ নয়, ১৫ তারিখ থেকেই শুরু হয় এই হিংসা!

দিনটা ১৬ই জানুয়ারি। হঠাৎ করেই খবরের শিরোনামে আসে বেলডাঙ্গা। হিংসার খবর কভার করতে গিয়ে আক্রান্ত হন এক মহিলা সাংবাদিক!

কিন্তু এই হিংসার আসল সুত্রপাত হয়, একদিন আগে ঠিক ১৫ই জানুয়ারি। স্থান মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার বিডিও অফিস

প্রতিদিনের মতোই সেদিনও চলছিল SIR-এর প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়া শেষ হতেই তৃণমূল বিধায়ক শেখ মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল বিক্ষোভকারী বিডিও অফিসের সামনে জড়ো হন। আর আচমকা অফিসের ভিতরে ঢুকে, সাধারণ মানুষকে অফিস থেকে বার করে দিয়ে চালানো হয় ব্যাপক ভাঙচুর। কিন্তু, এই ঘটনা নিয়ে ফরাক্কা থানায় এফআইআর দায়ের হলেও, সেখানে মূল অভিযুক্ত মনিরুলের নাম থাকে না।

অন্য দিকে, মণিরুল SIR-এর শুনানি নিয়ে বলেন, “রামের নাম শুনলে কাজ হচ্ছে, আর রহিমের নাম শুনলে চোদ্দ গুষ্টির খতিয়ান চাওয়া হচ্ছে। এই দ্বিচারিতা চলবে না। মানুষের অধিকারের লড়াইয়ে গুলি খেতে হলে আমিই প্রথম খাবো।”

পরিযায়ী শ্রমিক না, হিংসার কারণ ছিল অন্য কিছু?

এরপর ১৬ই জানুয়ারি ফের অশান্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ। কারণ, ৩০ বছর বয়সী আলাউদ্দিন শেখ নামের বেলডাঙার একজন বাসিন্দার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে ঝাড়খণ্ডে। যা নিয়ে গ্রামবাসীদের দাবী, যুবককে পিটিয়ে খুন করার পর তাঁর দেহ ঘরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদের শ্রমিক হওয়ার কারণেই যুবকের এই পরিণতি।

ওইদিন ওই যুবকের দেহ গ্রামে ফিরতেই, দোষীদের শাস্তির দাবিতে পথে নামেন গ্রামবাসীরা। অবরোধ করা হয় বেলডাঙা স্টেশন ও ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশের গাড়িতে, ইট ছোঁড়া হয় বাস ও বাসযাত্রীদের লক্ষ্য করে। ছোড়া ইটের ঘায়ে জখম হন অন্তত ১২ জন, ভোগান্তির শিকার হন অনেকেই।

এরপর খবর সংগ্রহ করতে গেলে, মারধর করা হয় জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতিকে। সোমাকে রাস্তায় ফেলে এলোপাথাড়ি কিল, চড়, লাথি ও ঘুষি মারা হয়। ভিড়ের মধ্যে তাঁর শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়োলেও রেহাই মেলেনি, তাঁকে ধাওয়া করে বেধড়ক মারধরের অভিযোগও উঠেছে। মারধর করা হয় তাঁর ক্যামেরাপার্সনকেও, যিনি আবার ক্যান্সারের রোগী। এছাড়াও, এই ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের আরও অন্তত ১২ জন কর্মী আহত হন।

কিন্তু, একবার ভেবে দেখুন, বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের হেনস্থা এই প্রথম না! মৃত্যু মানেই সেটা দুঃখের, এই নিয়ে ক্ষোভ হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু, গোটা ২০২৫ সালে যেখানে বহুবার বাইরের রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থা এবং মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে, সেখানে হঠাৎ করে এখনই কেন এত অশান্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদ?

কারণ এই অশান্তি কোনও পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু নয়, বরং SIR নিয়ে এবং প্ল্যানমাফিক করা হয়েছে।

কি অবাক হচ্ছেন? একথার ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি উত্তরবঙ্গ যাওয়ার আগে, দুবার-দুবার বেলডাঙ্গার পরিস্থিত নিয়ে কথা বলা শুরু করেন, কিন্তু তা শেষ হয় SIR নিয়েই। উল্টে, ঝাড়খণ্ডের ঘটনাকে তিনি বিহারের ঘটনা বলেও দাগিয়ে দেন।

কিন্তু, এই ঘটনার পিছনে যেমন ছিল উস্কানি, তেমনই ছিল প্ল্যান। হ্যাঁ ঠিকই বলছি, পুরো ভিডিও দেখলে আপনি জানতে পারবেন ঠিক কীভাবে প্ল্যান করে এই ঘটনাগুলি ঘটানো হয়েছে।

আর জানলে অবাক হবেন, পুলিশের ভূমিকা শুনলে! যেমন উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায় পুলিশকে অগ্রাহ্য করে বিডিও ভাঙচুর করেছিল একদল, ঠিক সেইভাবেই ১৬ই জানুয়ারিও পুলিশের সামনেই টায়ার জ্বালানো, বিক্ষোভ প্রদর্শন, জাতীয় সড়ক এবং রেল স্টেশন অবরোধ, এমনকি সাংবাদিকদের ওপর হামলাও করা হয়। কিন্তু, পুলিশ ঠুঁটো জগন্নাথের মতো পুরোটাই দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে।

যদিও শেষ পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলা সুপার সানি রাজ এবং জেলাশাসক নিতিন সিংহানিয়ার অনুরোধে বিক্ষোভ উঠে যায়, অশান্তি শুরু হওয়ার প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা পরে।

একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় ১৭ তারিখেও!

এরপর ১৭ই জানুয়ারি ফের একই ছবি দেখা যায় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। শুক্রবার দিন না হয় মানুষের মধ্যে ছিল জুম্মাবারের সেন্টিমেন্ট, না আমরা বলছি না এমনটা, এমনটা বলছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী! কিন্তু শনিবার দিন ফের কেন এমনটা হল? কীসের সেন্টিমেন্ট?

ফের অভিযোগ – বিহারে ওই মুর্শিদাবাদ জেলার আরও এক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করা হয়েছে, আর তাই বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় অবরোধ করেন কয়েকশো মানুষ। আর শুধু রাস্তা অবরোধ নয়, ফের হল একাধিক হিংসাত্মক ঘটনা। ভাঙচুর চালানো হল বেলডাঙা স্টেশন লাগোয়া রেলগেটে। ভেঙে ফেলা হল রেলের সিগন্যাল। সেখানে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ফের আক্রান্ত হলেন এবিপি আনন্দের সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা চিত্রসাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষ।

এরপর ভরতপুর কেন্দ্রের সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর অবরোধ তোলার আর্জি জানাতে গেলে, তাঁর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বচসা শুরু হয়।

কিন্তু তখনও পর্যন্ত মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন পুলিশ। যতক্ষণ না ইটের ঘা তাদের গায়ে এসে লাগল। মনে আছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একবার বলেছিলেন – যে গরু দুধ দেয়, তার লাথিও খেতে হয়। কিন্তু, পুলিশ হয়তো সেই লাথি খেতে প্রস্তুত ছিল না। তাই পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোঁড়া হতেই লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। গোটা এলাকা জুড়ে শুরু হয় ব্যাপক ধরপাকড়। আরপিএফ আসতেই মূলত সক্রিয়তা বাড়ে পুলিশের। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু, মুর্শিদাবাদের পুলিশ জেলা সুপার সানি রাজ মিডিয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, “প্রশ্ন করার আগে মানুষের সেন্টিমেন্ট বুঝে প্রশ্ন করুন।“

যদিও এরপর ৭ নম্বর ফর্ম জমা নিয়ে মুর্শিদাবাদের লালবাগে তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে ১৯শে জানুয়ারি। সেখানে ফের নওদায় রাজ্য সড়ক অবরোধ হয়।

এরপর বেলডাঙার এই অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে হাইকোর্টে দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। এমনকি এই ঘটনায় NIA তদন্তের দাবি জানান শুভেন্দু অধিকারী। হাইকোর্ট এই মামলায় জানায় – বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায় তবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা অর্থাৎ NIA-কে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে।

এতক্ষণ শুনলেন ঠিক যা যা ঘটেছে, কিন্তু এবার আপনাদের জানাবো এই ঘটনার আসল মাস্টারমাইন্ড কে ছিলেন?

পুলিশের কথা অনুযায়ী, গ্রেফতার করা হয়েছে বেলডাঙা ঘটনার ‘মূলচক্রী’-কে। মূলত সাংবাদিকদের উপর হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর নাম মতিউর রহমান। তিনি আগেও একাধিক হিংসামুলক ঘটনার সাথে যুক্ত থেকেছেন। জানা যায়, তিনি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম-এর নেতা। তবে, এই বিষয়টি চাউর হতেই – মিমের জেলা সভাপতি আসাদুল শেখ জানায়, মতিউর একসময় মিমের সাথে যুক্ত থাকলেও, বর্তমানে মতিউরের সাথে মিমের কোনও সম্পর্ক নেই।

কিন্তু জানলে অবাক হবেন, এটা আংশিক সত্য।

এই ঘটনায় আরও একজন উস্কানি দিচ্ছিলেন পর্দার আড়াল থেকে, আর তিনি হলেন মুলানা সউকাত আলী আলবানী

এই ব্যাক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের পেজে একটি উস্কানিমূলক পোস্ট করেন। সেখানে উল্লেখ ছিল ২০২০ সালে, এনআরসি-র বিরোধিতা করে বেলডাঙ্গা রেল স্টেশন এবং থানা জ্বালানোর কথা। ঠিক একইভাবে শুক্রবার যেন রেল স্টেশন জ্বালিয়ে এসআইএর বিরোধিতা করা হয়, এবং সেখান থেকে সেই একই পোস্ট বেলডাঙ্গার একাধিক গ্রুপে এবং পেজে শেয়ার করেন।

পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সোশ্যাল মিডিয়া ঘেঁটে ঘেঁটে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করছে। এবার আপনাদের পরের প্রশ্ন হবে ওই দোষী নিশ্চই ধরা পড়েছে? উত্তরটা – না। এই মুলানাকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি।

কিন্তু কেন পুলিশ তাকে ধরতে পারল না? কারণ পুলিশ নাকি তার খোঁজ জানে না! কিন্তু চাপ নেবেন না – এই আলবেনির খোঁজ বের করে ফেলেছে জি ২৪ ঘণ্টা। এই আলবেনি এখন গা ঢাকা দিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের এক মাদ্রাসায়। তাকে ফোন করে তার থেকে এই তথ্য নিয়েছেন জি ২৪ ঘণ্টার একজন সাংবাদিক।

তবে, আলবেনির কিন্তু এটা প্রথম উস্কানি দেওয়ার ঘটনা নয়। জানলে অবাক হবেন, ৯ মাস আগে ২০২৫ সালের ১১ই এপ্রিল, জঙ্গিপুর মহাকুমার সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান যখন অশান্ত হয়ে উঠেছিল ওয়াকফের প্রতিবাদে, যেখানে হিন্দুদের বাড়ি মার্ক করে করে, নৃশংস ভাবে মারা হয়েছিল হিন্দুদের, তখন সেখানেও আলবেনিকে দেখা গিয়েছে উস্কানিমূলক ভাষণ দিতে। যদি আপনি জানতে চান – ঠিক কীভাবে ঘটানো হয়েছিল মুর্শিদাবাদের হিংসা? তাহলে আপনি নীচের লিঙ্কে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন, India Hood-এর মুর্শিদাবাদ স্পেশাল ডিকোড।

এবার আমরা জানাবো কেন মুর্শিদাবাদেই বারবার এমন হিংসা দেখা যায়?

২০১৯-এর NRC, CAA-র বিরোধিতা করে ট্রেনে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া,
২০২৫-এ ওয়াকফের বিরোধিতা করে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার করা,
আর ২০২৬-এ SIR-এর নামে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা – প্রত্যেকবারই অশান্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ।

তবে কি পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বেশি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হওয়াই এর মূল কারণ? আপনাদের জানিয়ে দিই, বর্তমানে রাজ্যের ৭০ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যাই এখন এখানে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের এই জেলা বাংলাদেশের সঙ্গে সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত শেয়ার করে এবং অনুপ্রবেশের “প্রবেশ পথ” হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে অনেক সময়। বেশ কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে সীমান্তের কারণে মুর্শিদাবাদে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।

তাই শুধু কি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হওয়াই কী এই হিংস্র মূল কারণ? নাকি এর পিছনে রয়েছে সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না আপনার মতামত।

Leave a Comment