প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভয়ংকর কাণ্ড দুর্গাপুরে! আজ, সকালে দুর্গাপুরের ডিএসপি টাউনশিপের ডি-সেক্টর মার্কেট সংলগ্ন একটি কোয়ার্টার্সের ঘর থেকে এক মহিলার কঙ্কালসার দেহ উদ্ধার (Deadbody Of Nurse Found At House) হয়েছে। ব্যাপক চাঞ্চল্য দুর্গাপুর থানার ইস্পাত নগরীর ডি-সেক্টর মার্কেটে। অভিযোগ, কঙ্কালসার দেহের গন্ধ যাতে ছড়িয়ে না পরে তারজন্য দেহের উপর নুন ছড়ানো হয়েছে। ঘটনায় গ্রেপ্তার মৃতার পুরুষসঙ্গী।
ঠিক কী ঘটেছিল?
স্থানীয় রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার, দুর্গাপুরের ডিএসপি টাউনশিপের ডি-সেক্টর মার্কেট সংলগ্ন একটি কোয়ার্টার্সের ঘর থেকে এক মহিলার কঙ্কালসার দেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ওই মহিলার নাম ছবি দাস, বয়স ৫৫। তিনি পেশায় ছিলেন ডিএসপি হাসপাতালে আয়া। জানা গিয়েছে, আজ সকাল থেকেই নিহতের বাড়ি থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল এলাকায়। শেষে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা জোর জবরদস্তি ঘরের ভিতর ঢুকতেই দেখে ওই মহিলার মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। এবং দুর্গন্ধ ঢাকতে ওই দেহের উপর নুন ফেলে রাখা হয়েছে।
পুরুষ সঙ্গীর বিরুদ্ধে ভয়ংকর অভিযোগ
মৃতদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের দাবি, ডি সেক্টরে আইএনটিটিইউসি কার্যালয়ের পাশেই দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার আবাসনের সার্ভেন্ট কোয়ার্টারে দীর্ঘদিনের সঙ্গী প্রদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গেই থাকতেন ছবি দেবী। প্রদীপ চক্রবর্তী আগে ডিএসপিতে ঠিকা কর্মীর কাজ করতেন। কিন্তু কর্মরত অবস্থায় মদ্যপানের জন্যে প্রদীপ বাবুর চাকরি চলে যায়। যার ফলে তাঁর স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। এরপরেই মৃতা ছবি দাসের নিয়মিত যাতায়াত শুরু হয়েছিল। কিন্তু এরপরেও মদ্যপান নিয়েও মাঝে মধ্যে প্রদীপ এবং ছবির মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকতো। আর এরপরেই ঘটে গেল এই ভয়ংকর ঘটনা। সকলের অভিযোগ ছবি দাসকে খুন করেছে প্রদীপ চক্রবর্তীই।
ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে দেহ
দেহ উদ্ধারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় দুর্গাপুর থানায়। অভিযোগ পেতেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে এসে হাজির হন পুলিশ। দেহটিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে নিহতের সঙ্গীকেও আটক করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা এন্থনী ডি’সুজা অভিযোগ করেন, “ছবি দাস খুব ভালো মহিলা ছিল। কয়েক মাস ধরে দু’জনের মধ্যে টাকা-পয়সা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছিল। সেই থেকেই খুন করা হয়েছে। খুন করার পর যাতে গন্ধ না ছড়ায় সেইজন্য নুন ছেটানো হয়েছে। আমরা কঠোর শাস্তি চাইছি।”
আরও পড়ুন: ৩২ ঘণ্টা পর আনন্দপুরে দমকলকন্ত্রী, কেন আগে আসেননি? জানালেন সুজিত বসু
গোটা ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় পুলিশের অনুমান, মাস খানেক আগে মৃত্যু হয়েছে ছবি দাসের। তবে সঠিক রিপোর্টের জন্য তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় আসানসোল জেলা হাসপাতালে। এই প্রসঙ্গে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের সিআই (এ) রনবীর বাগ জানান, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার হবে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।”