ভাইরাল কাকলী ফার্নিচারের মালিক আজ সর্বস্ব হারিয়ে ফকির, কীভাবে হল এমন? জানুন কাহিনী

Kakoli Furniture

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আজ যে রাজা, কাল সে ফকির! এ কথার সাথে আমরা কম বেশি সকলেই পরিচিত। আজ থেকে বছর ছয়েক আগের কথা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তখন একটাই ট্রেন্ড, “দামে কম মানে ভালো কাকলি ফার্নিচার!” তবে আজ ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে এই কাকলি ফার্নিচারের (Kakoli Furniture) মালিক সর্বস্ব হারিয়ে দেউলিয়া। কিন্তু এর পিছনে কী কারণ কাজ করছে? কেন আজ এই অবস্থা বাংলাদেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান কাকলি ফার্নিচারের?

সংবাদ সম্মেলনে দুঃখ প্রকাশ সংস্থার চেয়ারম্যানের

সম্প্রতি ওপার বাংলায় এক প্রেস মিটিংয়ে নিজের সঙ্গে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং হিসাব গোপনের অভিযোগ তুলে ধরেছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এস এম সোহেল রানা। শুক্রবার ওই সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েন। এমনকি সেই সময় উপস্থিত সাংবাদিক, পরিবারের সদস্য এবং অন্যান্যদের চোখেও জল চলে আসে।

তিনি জানান, তাঁর বোন জামাই আমান উল্লাহু এবং বোন কাকলি আমান পরিবারের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাকলি ফার্নিচারের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। এমনকি জমি, গাড়ি সবকিছুই নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নিয়েছে। তাদের অনিয়ম এবং প্রতারণার কারণে আজ এই শিল্প প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে। তিনি বলেন, তাঁর বাবা মরহুল আবুল কাশেম ২০০০ সালের পর এই কাকলি ফার্নিচার প্রতিষ্ঠা করেন। আর অল্প সময়ের মধ্যেই তা সুনাম অর্জন করে এবং প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে আমান উল্লাহকে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করা হলে তিনি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ ভাইরাল কাকলী ফার্নিচারের মালিক আজ সর্বস্ব হারিয়ে ফকির, কীভাবে হল এমন? জানুন কাহিনী

এদিন এস এম সোহেল রানা বলেন, হিসাবের অনিয়মের কারণে বর্তমানে কাকলি ফার্নিচারের ২ কোটি টাকা ব্যাঙ্ক ঋণ রয়েছে। এমনকি ১ কোটি টাকা পাওনাদারদের দায় তৈরি হয়েছে। আর হিসাব চাইলেই প্রতিপক্ষরা হামলার হুমকি দিচ্ছে। বিশেষ করে করোনা ভাইরাসের সময় “দামে কম মানে ভালো কাকলি ফার্নিচার” এর ট্রেন্ডে গা ভাসিয়েছিল নেট নাগরিক। তবে আজ সেই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ দেউলিয়া হওয়ার পথে। দীর্ঘদিনের প্রতারণার কারণে তিনি কার্যত মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

আরও পড়ুন: এবার বাংলাদেশি সাংবাদিকদেরও T20 বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিল ICC!

সাংবাদিক সম্মেলনে সংস্থার চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, ব্যবসার অর্থ দিয়ে ছয়টি জমি কেনা হলেও সেগুলোর কোনও রকম হিসাব আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এর পাশাপাশি কাকলি ফার্নিচারের মালিকানাধীন একটি পিকআপ ভ্যান এবং একটি প্রাইভেট কার যাদের আনুমানিক বাজার মূল্য ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা, সেগুলিকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ২০১৬ সাল থেকে যৌথ মালিকানাধীন একটি ফাউন্ডেশন বাড়িকে গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

Leave a Comment