অনুমতি ছাড়াই SIR-এ যুক্ত আধিকারিকদের বদলি কেন! নবান্নকে কড়া চিঠি কমিশনের

Election Commission Of India

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে আর কয়েক মাস বাকি। তাই সেক্ষেত্রে নির্বাচন প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠভাবে সুসম্পন্ন হয় তার জন্য জোরকদমে চলছে SIR প্রক্রিয়ার কাজ। এমতাবস্থায় SIR প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের (Election Commission Of India) মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার নিল। অভিযোগ কমিশনের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে নাকি SIR-এর সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি করল নবান্ন।

কমিশনের নির্দেশে অগ্রাহ্য রাজ্যের

নির্বাচন কমিশনের তরফে আধিকারিকদের বদলি সংক্রান্ত প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর কাজ। এই পর্যায়ে কোনওরকম রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব এড়াতে আগেই রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে SIR চলাকালীন এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনও আধিকারিককে কমিশনের অনুমতি ছাড়া বদলি করা যাবে না। কিন্তু এবার রাজ্য সেই নির্দেশ মানল না। তাই বদলির প্রতিবাদে এবার রাজ্যকে কড়া চিঠি দিল কমিশন।

নবান্নকে কড়া ভাষায় আক্রমণ কমিশনের

নির্বাচন কমিশন নবান্নে পাঠানো চিঠিতে জানিয়েছে যে, গত বছর ২৭ অক্টোবর জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন সংশ্লিষ্ট কোনও আধিকারিককে কমিশনের আগাম অনুমতি ছাড়া বদলি করা যাবে না। এই নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব ছিল রাজ্যের মুখ্যসচিবের উপর। এবং পরবর্তী সময়ে, ২৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ১২ জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভার ও ৫ জন ডিভিশনাল কমিশনার নিয়োগ করে। তাঁরা কার্যত নির্বাচন কমিশনের অধীনেই কাজ করছিলেন। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ এবং ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞপ্তি জারি করে তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভারকে বদলি করেছে দরকার পড়েনি কমিশনের অনুমতির। তাই এটি যুক্তিসঙ্গত নয়।”

বিজ্ঞপ্তি বাতিলের নির্দেশ কমিশনের

রাজ্য সরকার ডিসেম্বর ২০২৫ ও জানুয়ারি ২০২৬-এ বিজ্ঞপ্তি জারি করে যে তিন জন গুরুত্বপূর্ণ অবজার্ভারকে অন্যত্র বদলি করেছিল সেই তিনজন হলেন অশ্বিনী কুমার যাদব (উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর), রণধীর কুমার (উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা উত্তর) এবং স্মিতা পাণ্ডে (পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূম)। তাই এবার এদের বদলি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যকে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হল, যে তিনজন আধিকারিককে বদলি করার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, সেই বিজ্ঞপ্তি আজ, বুধবার দুপুর ৩টের মধ্যে বাতিল করতে হবে। শুধু বাতিল নয়, এই পদক্ষেপ করার পর, সেটা রিপোর্ট আকারে কমিশনকে জানাতেও হবে।

আরও পড়ুন: ৩১ মার্চের মধ্যেই … রাজ্য সরকারকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিল হাইকোর্ট, কোন মামলায়?

প্রসঙ্গত, তিন আধিকারিকের বদলি বিজ্ঞপ্তি বাতিল করার প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টানাপোড়েন যে স্পষ্ট সেই নিয়ে ব্যাপক চর্চা চলছে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। যদিও এই বিতর্কের মধ্যে একটি প্রশ্ন বারংবার উঠে আসছে আর সেটি হল ভোটার তালিকার মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় কমিশনের ভূমিকা খর্ব করার জন্যই কি রাজ্য পরিকল্পনা করে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কিনা। এখন দেখার পালা রাজ্য সরকারের তরফে কী ব্যাখ্যা আসে। আদেও নির্বাচন কমিশনের আদেশে বিজ্ঞপ্তি বাতিল করবে কিনা সেদিকেই আপাতত নজর সব মহলের।

Leave a Comment