প্রক্রিয়া শুরু, সুদ সহ বেতন আদায় হবে দাগি প্রার্থীদের! সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা SSC-র

Taking Back Salaries Of Tainted Teachers

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল হয়ে যাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে দাগি চাকরিপ্রার্থীদের সুদ সমেত বেতন ফেরৎ দিতে হবে। কলকাতা হাইকোর্টের তরফেও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে যাঁরা দাগি, যাঁরা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে চাকরি পেয়েছেন তাঁদের বেতন দ্রুত সুদ সমেত ফেরত দিতে হবে। কিন্তু তারপরেও জেলাশাসকদের মাধ্যমে টাকা ফেরতের যে প্রক্রিয়া (Taking Back Salaries Of Tainted Teachers) শুরু হওয়ার কথা ছিল তা শুরু হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। তবে এবার সেই নিয়ে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিল রাজ্যের শিক্ষা দফতর।

হলফনামা জারি রাজ্যের শিক্ষা দফতরের

রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের শিক্ষা দফতর এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে হলফনামা জারি করা হয়েছিল। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয় যে, ‘দাগি বা চিহ্নিত অযোগ্য’ শিক্ষকদের কাছ থেকে সুদসমেত বেতন ফেরত নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে টাকা আদায় হবে ‘বেঙ্গল পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট, ১৯১৩’ অনুযায়ী। অর্থাৎ এই আইনের মাধ্যমে যেভাবে সরকারি বকেয়া যেমন ভাবে ভূমি রাজস্ব, সরকারি কর, জরিমানা আদায় করা হয়, সেই ভাবে তাঁদের বেতনগুলি আদায় করা হবে। ইতিমধ্যেই জেলাশাসকদের টাকা আদায়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

জেলাশাসকের মাধ্যমে আদায় হবে টাকা

সূত্রের খবর, গত বছর ডিসেম্বরে স্কুলশিক্ষা দফতর প্রত্যেক জেলাশাসককে টাকা আদায়ের বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল। নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, জেলা স্কুল পরিদর্শকের সাহায্য নিয়ে জেলাশাসকরা যেন এসএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘দাগি শিক্ষকদের’ তালিকা সংগ্রহ করে। এবং তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের নাম, ঠিকানা, কত টাকা বেতন নিয়েছেন এ সব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তার পর ‘বেঙ্গল পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট, ১৯১৩’ অনুযায়ী টাকা আদায় করতে হবে। যদি কোনো দাগি প্রার্থী টাকা না দিতে চায় সেক্ষেত্রে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নোটিস পাঠিয়ে টাকা আদায় করা হতে পারে।

আরও পড়ুন: অনুমতি ছাড়াই SIR-এ যুক্ত আধিকারিকদের বদলি কেন! নবান্নকে কড়া চিঠি কমিশনের

আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, আজ অর্থাৎ বুধবার দাগি প্রার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়ার মামলার শুনানি হতে পারে। সেক্ষেত্রে রাজ্যের তরফে আর কী কী বক্তব্য পেশ হয় এখন সেটাই দেখার। এদিকে মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, “বেতন ফেরত নিয়ে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। এখন রাজ্য বলছে, জেলাশাসকদের বেতন আদায়ের কথা বলা হয়েছে। এর পরেও দাগি অযোগ্যদের বেতন যদি আদায় না হয়, তাহলে আবার আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করব।”

Leave a Comment