প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: একাধিক বিতর্ক একাধিক মতভেদ এবং দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (India-EU Free Trade Deal) সম্পূর্ণ করল ভারত। ১৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে ইউরোপের বাজার যেমন একদিকে ভারতীয়দের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে ঠিক তেমনই ভারতীয় বাজারেও এবারে আসতে চলেছে ইউরোপের পণ্য। তবে এবার এই চুক্তি নিয়ে ভিন্ন মত প্রেরণ করল সিপিআই(এম)।
চুক্তি প্রসঙ্গে কী বলছেন প্রধানমন্ত্রী?
ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির উপকারিতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন যে, “এই চুক্তি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এবং ইউরোপের দেশগুলির কয়েক কোটি মানুষের জন্য দারুণ সুযোগ তৈরি করবে। এটা নির্মাণশিল্প এবং অনুসারী শিল্পগুলির ক্ষেত্রে আরও গতি আনবে।” পাশাপাশি বাণিজ্যের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক গণতন্ত্রও পোক্ত হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এই চুক্তি নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি। তাঁদের মতে এই চুক্তিটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থের এক সামগ্রিক আত্মসমর্পণের প্রতিফলন।
তীব্র প্রতিবাদ সিপিআই(এম) এর!
সিপিআই(এম) দাবি করছে যে, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানিকৃত ৯০ শতাংশেরও বেশি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক বিলোপ করবে। যার মধ্যে রয়েছে অটোমোবাইল, লোহা ও ইস্পাত, ওষুধ, ওয়াইন ও স্পিরিট, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং ভেড়ার মাংস। এদিকে শুল্কের এই ব্যাপক হ্রাসের ফলে ভারতের অটোমোবাইল, ওষুধ এবং যন্ত্রপাতি শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছে। অর্থাৎ গাড়ি এবং মদের দাম কমে যাওয়ার ফলে কেবল উচ্চবিত্তরাই উপকৃত হবেন কিন্তু শুল্ক হ্রাসের এই সিদ্ধান্তে শ্রমিক, কৃষক এবং সাধারণ মানুষের জীবিকাকে ধ্বংস করে দেবে।
CPI(M) Polit Bureau opposes the India-EU #FreeTradeAgreement#FTA #EuropeanUnion pic.twitter.com/xP0DsD897R
— CPI (M) (@cpimspeak) January 27, 2026
আরও পড়ুন: মদ থেকে গাড়ি, তেল, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে চুক্তির জেরে ভারতে যা যা সস্তা হবে
প্রসঙ্গত, চলতি বছর ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে অন্যতম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান। এমনকি দিন কয়েক আগে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন জানিয়েছিলেন, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করতেই এ দেশে আসছেন তিনি। এছাড়াও বৈঠকের আগে তিনি বলেন, “সফল ভারতই পারে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল, উন্নত এবং নিরাপদ করে তুলতে।” সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক শিবিরে এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।