সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বগটুই গণহত্যাকাণ্ডে (Bogtui Genocide Incident) তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া ঘিরে এবার বিরাট সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা হাইকোর্ট। হ্যাঁ, সিবিআই এর আবেদনের সাড়া দিয়ে বীরভূম জেলার রামপুরহাট আদালত থেকে মামলার শুনানি সরিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার আদালতে স্থানান্তরের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার আদালত জানিয়েছে, বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপ।
কেন মামলা স্থানান্তরের আবেদন করেছিল সিবিআই?
আসলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করছিল যে, বগটুই মামলার একাধিক সাক্ষীকে চাপ আর প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতে সিবিআই জানিয়েছিল, প্রায় ১০০ জন সাক্ষীকে প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অনেক সাক্ষী আদালতে এসে আগের বয়ান বদলে ফেলেছে। আর এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। সেই কারণেই মামলা অন্য জেলায় সরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে সিবিআই।
বুধবার বিচারপতি অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলার শুনানি হয়েছিল। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানিয়েছে, বিচার প্রক্রিয়ার স্বার্থে এবং সাক্ষীদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য মামলাটিকে স্থানান্তর করা জরুরী। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা বিষয়, এর আগেও কামদুনির মতো সংবেদনশীল মামলার শুনানি নিরাপত্তার স্বার্থে অন্য জেলায় স্থানান্তর করা হয়েছিল।
কী হয়েছিল বগটুই কাণ্ডে?
জানিয়ে রাখি, ২০২২ সালের ২১ মার্চ বীরভূমের রামপুরহাট থানার অন্তর্গত বগটুই মোড়ে ঘটে এক ভয়াবহ ঘটনা। ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে বোম মেরে হত্যা করা হয়েছিল তৃণমূল নেতা তথা বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন উপপ্রধান ভাদু শেখকে। অভিযোগ ওঠে, ওই হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘন্টার মধ্যে ভাদু শেখের অনুগামীরা বগটুই গ্রামের একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে লাগিয়ে দেয়। আর সেই অগ্নিকাণ্ডে এক শিশু কন্যা সহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনা নিয়ে গোটা রাজ্যে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
প্রথমে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্ত শুরু করেছিল। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সেই তদন্তভার সিবিআই এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর সিবিআই এর তরফ থেকে তৎকালীন রামপুরহাট ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আনারুল হোসেন সহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছিল। আর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত লালন শেখকে নয় মাস পর গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর সিবিআই হেফাজতে লালন শেখের অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়। আর এই ঘটনার পর নতুন করে আরও উত্তেজনা ছড়ায়।
আরও পড়ুন: প্রতি শো’র জন্য ১০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক! জানেন অরিজিৎ সিং-র মোট সম্পত্তির পরিমাণ কত?
এদিকে শুরুতে তদন্তে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পরে সেই তালিকায় আরও তিনজনের নাম যুক্ত করা হয়। তদন্ত চলাকালীন নানারকম প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেই মামলাটি বগটুই আবেদন করেছিল সিবিআই। সেই সূত্রে হাইকোর্টের নির্দেশ মতো এবার থেকে এই গণহত্যা মামলার সমস্ত শুনানি হবে পূর্ব বর্ধমান জেলার আদালতে।