শুধু DA’ই নয়, এবার শূন্যপদ নিয়েও বিরাট হুঁশিয়ারি সরকারি কর্মীদের, হবে বড়সড় কিছু?

DA Protest Bengal

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ উপেক্ষা, চোখ রাঙানির এ যেন ৩ বছর পূর্ণ হল। DA সহ একাধিক দাবিতে গত ৩ বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। রোদ, ঝড়, জল, শীত উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে চলছে আন্দোলন। AICPI অনুযায়ী, বিকল বকেয়া সহ কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদান ও স্থায়ী আদেশনামা জারি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৬ লক্ষ শূন্যপদে স্বচ্ছ ও স্থায়ী নিয়োগ, যোগ্য অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ ও সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রতিহিংসামূলক বদলি ও ডিটেলমেন্ট বন্ধ, এই সকল দাবিতে গতকাল ২৭ জানুয়ারি শহিদ মিনারের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। আন্দোলন কতটা ফলপ্রসু হল, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই বা কী? এই নিয়ে মুখ খুললেন, ভাস্কর ঘোষ।

৩ বছর পূর্ণ করল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ

ভাস্কর ঘোষ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্রমাগত উপেক্ষা এবং বাধার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও, আন্দোলনকারীদের মনোবল বিন্দুমাত্র টলানো যায়নি। এমনকি বিধানসভা ভোটের আগে এই লড়াই চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে বলে জানালেন ভাস্কর ঘোষ। সকলের মুখে এখন একটাই কথা, বকেয়া সহ কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে হবে। সেই সঙ্গে মানতে হবে আরও অন্যান্য দাবিও। বলা ভালো, যত সময় এগোচ্ছে সকলের লড়াই আরও তীব্র হচ্ছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অন্যতম মুখ ভাস্কর ঘোষের মতে, তাঁরা যখন আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তখন এই লড়াই যে এত দীর্ঘ হবে তা কল্পনাতীত ছিল।

বিস্ফোরক অভিযোগ কর্মীদের

ভাস্কর ঘোষ অভিযোগ করেন, সরকার মানুষের অধিকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। তবে তাঁদের লাগাতার আন্দোলনের ফলেই রাজ্য সরকার কর্মীদের বন্ধ হয়ে যাওয়া ডিএ-র ৩ শতাংশ দিতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি ৬ লক্ষ শূন্যপদ এবং স্থায়ীকরণের বিষয়টি নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন, যদিও ওবিসি সংরক্ষণের দোহাই দিয়ে সেই প্রক্রিয়া বর্তমানে থমকে আছে। ভাস্কর ঘোষ ৬ লক্ষ শূন্যপদে শীঘ্রই নিয়োগ করানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? আগামী দিনে সরকারের সমস্ত “চোখরাঙানি” উপেক্ষা করে আন্দোলন আরও তীব্রতর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। একজন লেখেন, ‘তিন বছর—সময়ের হিসাবে অল্প,কিন্তু সংগ্রামের হিসাবে একএকটি বছর যেন এক একটি যুগ।আজ পিছনে তাকালে দেখি—মঞ্চ ছিল না শুরুতে,ছিল শুধু ক্ষতবিক্ষত কিছু মন,অন্যায়ে ক্ষুব্ধ কিছু হৃদয় আর আপসহীন থাকার একরাশ সাহস। হুমকি ছিল,অবহেলা ছিল,ছিল নীরবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা—তবু মাথা নত হয়নি। কারণ এই লড়াই কোনও ব্যক্তির নয়,এই লড়াই ছিল সম্মিলিত বিবেকের।অনেকেই সরে গেছে,অনেকে ক্লান্ত হয়েছে,কিন্তু সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ থামেনি। কারণ এখানে পদ নয়—প্রতিজ্ঞা ছিল মুখ্য,এখানে সুবিধা নয়—সত্য ছিল শেষ কথা।’

আরও পড়ুনঃ উপেক্ষা, চোখ রাঙানির এ যেন ৩ বছর পূর্ণ হল। একাধিক দাবিতে গত ৩ বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। 

তিনি আরও লেখেন, ‘এই তিন বছরে আমরা শিখেছি—লড়াই মানে শুধু স্লোগান নয়, লড়াই মানে প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করা।লড়াই মানে দাঁড়িয়ে থাকা,যখন দাঁড়ানোই সবচেয়ে কঠিন।আজ তৃতীয় বর্ষে এসে চোখে জল আসে—কারণ হারানোর স্মৃতি আছে,আঘাতের দাগ আছে।আবার চোখে আগুনও আছে—কারণ পথ এখনও শেষ হয়নি। আমরা আজ শপথ নিই—আপস নয়, আত্মসমর্পণ নয়।যতদিন অন্যায় থাকবে,ততদিন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ লড়বে।নাম নয়, ইতিহাস হয়ে উঠাই আমাদের লক্ষ্য।তিন বছর পূর্ণ হলো—কিন্তু সংগ্রাম চলছেই। কারণ এই লড়াই থামে না,এই লড়াই বেঁচে থাকে মানুষের মনে।’

Leave a Comment