সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি। তবে তার আগেই বিরাট সিদ্ধান্ত নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবসহ একাধিক শীর্ষ আইএএস এবং আইপিএস অফিসারদের রাজ্যের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য রাজ্যে বিশেষ পর্যবেক্ষক আর পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা।
কারা কারা পড়ছে তালিকায়?
কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার মোট ১০ জন আইএস এবং দশজন আইপিএস অফিসারকে বাছাই করা হয়েছে। আইএএস তালিকায় রয়েছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশ প্রকাশ মীনা সহ বেশ কিছু সিনিয়র প্রশাসনিক কর্তারা। পাশাপাশি আইপিএস অফিসারদের তালিকা রয়েছেন হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীন ত্রিপাঠিসহ আসানসোল পুলিশ কমিশনার এবং আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক। আর এই অফিসারদের আগামী ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সেই সংক্রান্ত সরকারি চিঠিও ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য মোট পাঁচটি রাজ্যে বিশেষ পর্যবেক্ষক এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে রাজ্যগুলির কাছ থেকে আইএস এবং আইপিএস অফিসারদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ উঠছে, পশ্চিমবঙ্গ সেই তালিকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠায়নি। যার ফলে কমিশন নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলার একাধিক শীর্ষ অফিসারকে তুলে নিয়ে আসে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক। বিজেপি মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এক সংবাদ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, রাজ্য সরকার সহযোগিতা না করার কারণে নির্বাচন কমিশন নিজেই অফিসারদেরকে বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিজেপির দলদেশে পরিণত হয়েছে। বিজেপির রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য একের পর এক অনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে যাচ্ছেন। তখনই বোঝা যাবে কে কতটা নিরপেক্ষ।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীবারে অর্থের পাহাড়ে বসবে ৫ রাশি! আজকের রাশিফল, ২৯ জানুয়ারি
উল্লেখ করার বিষয়, এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার শুনানি পর্ব চলছে। আর শুনানি শেষ হলে ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জন উঠছে, সেই তারিখ আবারও পিছতে পারে। কারণ, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরপরই বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ সামনে আসতে পারে। এদিকে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে নয়, বরং সামনে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে অসম, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরিতেও। আর সেখানেও পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করবে বাংলার শীর্ষ আমলা বা পুলিশকর্তারা।