সৌভিক মুখার্জী, আনন্দপুর: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ঘটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে এবার সুর চড়ালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Anandapur Fire)। এবার একাধিক কারণকে তিনি কাঠগড়ায় তুললেন। গোডাউনের ভাড়া থেকে শুরু করে লাইসেন্সবিহীন নির্মাণ, অগ্নি নিরাপত্তার অভাব এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে দোষারোপ করলেন শুভেন্দু। এমনকি প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়েও এদিন তিনি সুর চড়িয়েছেন।
গোডাউনের ভাড়া আর বিধায়কের নাম তুলেই অভিযোগ
শুভেন্দু অধিকারী এদিন দাবি করেন, নাজিরাবাদে থাকা ওই গোডাউনটি প্রতি মাসে ১.৫ লক্ষ টাকা করে ভাড়া দেওয়া হত। আর সেই ভাড়ার মধ্যে ৬০ হাজার টাকা সরাসরি স্থানীয় বিধায়কের প্রতিনিধির হাতে পৌঁছত। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, গোডাউনের কোনও বৈধ লাইসেন্স ছিল না। এমনকি অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থাও ছিল না বললেই চলে। তবুও প্রশাসন কোনও রকম ব্যবস্থা নেয়নি।
এদিকে আগুন লেগে যাওয়া গোডাউন দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের আওতায় পড়ে। আর ওই কেন্দ্রের বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম। ঘটনার পর পুলিশ গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছিল। অভিযোগ ওঠে জলাভূমি বুজিয়ে গোডাউন তৈরি করা হয়েছিল। পাশাপাশি ফরেন্সিক রিপোর্ট অনুযায়ী আগুনের সূত্রপাত হয় গোডাউনের পাশের একটি তিনতলা বিল্ডিং থেকে। তারপর ধীরে ধীরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দুটি গুদামে। আর এতে মোট ৪০ জন মানুষ ভিড়ে আটকা পড়েছিলেন।
Mamata Banerjee is scared !!!
The Mamata Banerjee Administration has stooped to a new low of cowardice and fascism.The devastating fire at the Nazirabad; Anandapur Warehouse has already claimed over 20 innocent lives (with the toll still rising and DNA testing underway for… pic.twitter.com/UOkOnLi4rU
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) January 29, 2026
শুভেন্দুর মতে, মৃতের সংখ্যা ৩৫ থেকে ৪০ জন ছাড়াতে পারে। এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত রিপোর্ট সামনে আসেনি। এমনকি তিনি জানিয়েছেন, নিহতদের অধিকাংশ মেদিনীপুরের বাসিন্দা এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক দিন্দা প্রথম দিন থেকে ঘটনাস্থলে সাহায্য করছেন। সবথেকে বড় ব্যাপার, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে এদিন কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ওই ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটারের মধ্যেই। তবুও তিনি আসেননি। এটা ভোটব্যাঙ্ক নয়। তাই রাজধর্ম পালন করা হয়নি।
আরও পড়ুন: KKR-র প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া ঋদ্ধিমান সাহাকে কোচ করতে চাইছে IPL-র এই দল
এদিকে ঘটনার তিনদিন পর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁকে বাধা দেওয়ার জন্য এই ধারা ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু সহ বেশ কিছু মন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তাঁদের কোনওরকম বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমার জন্য কেন ১৬৩ ধারা? শুভেন্দুর অভিযোগ, পুলিশ কার্যক্রম রাজনৈতিকভাবেই পরিচালিত করছে। তবে পরবর্তীতে শুভেন্দু হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন, আর বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ তাঁকে নরেন্দ্রপুর যাওয়ার অনুমতি দেন এবং মিছিলের রুটও নির্ধারণ করে দেন।