আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে Wow Momo-র দুই কর্মীকে গ্রেফতার করল পুলিশ

Anandapur Fire Incident

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur Fire Incident) রেশ এখনও কাটেনি। বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মৃত ২৩ জন। এমনকি নিখোঁজ কমপক্ষে ১২ জন। তবে এই অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে এবার আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ওয়াও মোমোর গোডাউনের দায়িত্ব থাকা ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী এবং ডেপুটি ম্যানেজার মনোরঞ্জন শীটকে নরেন্দ্রপুর থানা আটক করেছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ডেকরেটর্স সংস্থা নিউ পুষ্পাঞ্জলি নার্সারি প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তবে এবার এই দু’জন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে না মানার অভিযোগে। নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে তিন দিনের মাথায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে রিপোর্ট অনুযায়ী খবর। তবে এখনও পর্যন্ত চলছে তল্লাশি।

আগেই বিবৃতি দিয়েছিল ওয়াও মোমো

উল্লেখ্য, আগেই ওয়াও মোমোর তরফ থেকে বিবৃত মিলেছিল। অভিযোগ উঠেছিল, পাশের গুদামে অননুমোদিত ভাবে রান্না করা হচ্ছিল। সেখান থেকেই লাগে আগুন। আর এই ঘটনায় সংস্থার তিনজন কর্মীরা মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি তাদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে বলেও জানিয়েছিল ওয়াও মোমো। এমনকি আজীবন মাসিক বেতন দেওয়া হবে। তাছাড়া সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল সংস্থার তরফ থেকে।

আরও পড়ুন: সোনা, রুপোর দাম ছুঁল নতুন রেকর্ড! আর কিনতে পারবে না মধ্যবিত্তরা?

বলে দিই, রবিবার ভোররাতে নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত আনন্দপুরের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। ইএম বাইপাসের ধারেই ঘটে ঘটনা। বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে যায় নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার আনন্দপুর ডেকরেটার্সের অফিস গোডাউন। বেরোনোর পথ না পেয়ে মৃত্যু হয় একাধিক কর্মীর। অভিযোগ, প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ থাকলেও নিয়মিত রান্না চলত। আর কর্মীদের থাকার জায়গায় ছিল মাত্র একটি দরজা। সেই কারণে আগুন লাগাতে দরজা বন্ধ হয়ে যায়। সবাই ঠিকমতো বেরোতে পারেননি। জলন্ত অফিস থেকে বেরিয়েও অনেকের শেষ রক্ষা হয়নি। আর পাশের গোডাউনে আগুন লাগলে বিপদ আরও বাড়ে। সেখানেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় একের পর এক কর্মীর।

Leave a Comment