সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজনীতির সাফল্যের হাতিয়ার হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নগদ সহায়তামূলক প্রকল্প নিয়ে এবার বিরাট সতর্কবার্তা দিয়েছে ইকোনমিক সার্ভে ২০২৬। পশ্চিমবঙ্গের লক্ষীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) বা অন্য রাজ্যের যে কোনও প্রকল্প এই তথাকথিত ‘ফ্রিবি’ নীতির মধ্যেই নাকি দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক বিপদের ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে। এমনটাই বলছে সমীক্ষা। হ্যাঁ, বিশেষজ্ঞদের মতে এই সতর্কবার্তা শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দেশের সমস্ত রাজ্য সরকারের জন্যই প্রযোজ্য।
আসলে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এটা ছিল তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কের সবথেকে বড় অস্ত্র। এরপর খুব দ্রুত দেশের একাধিক রাজ্যে একই ধরনের নগদ সহায়তামূলক প্রকল্প ছড়িয়ে পড়ে। এক সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী এই ধরনের প্রকল্পকে ‘রেবড়ি সংস্কৃতি’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি সেই একই পথেই হেঁটেছে। এমনকি সম্প্রতি বিজেপি শাসিত রাজ্য বিহারে নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার মহিলা রোজগার যোজনার মাধ্যমে ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলাকে ১০,০০০ টাকা করে সরকারি সুবিধা দিয়েছেন, যার উদ্বোধন করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আর্থিক সমীক্ষায় উদ্বেগ
তবে হ্যাঁ, সংসদে বাজেট পেশের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ইকনোমিক সার্ভে ২০২৬ রিপোর্ট পেশ করেছেন। আর সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই ধরনের নিঃশর্ত সহায়তামূলক প্রকল্প রাজ্যগুলির ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার বা পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের আর্থিক স্থিতিশীলতার উপর এর প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে নিঃশর্ত নগদ সহায়তায় মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা। আর এই ব্যয়ের সবথেকে বড় অংশই মহিলা উপভোক্তদের উদ্দেশ্যে।
এদিকে ইকনোমিক সার্ভের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের আয়ের সবথেকে বড় অংশ বেতন ও পেনশন, সুদের বোঝা, ভর্তুকি এবং নগদ সহায়তামূলক প্রকল্পগুলিতে আটকে রয়েছে। আর এই কমিটেড এক্সপেন্ডিচারের চাপে পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মানবসম্পদ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিনিয়োগের জায়গা দিনের পর দিন সংকুচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ডেলিভারি বয়কে অপমান করার ভিডিও ফেক, প্রকাশ্যে এল আসল সত্যি
তবে হ্যাঁ, সমীক্ষা আবার স্বীকার করেছে যে, এই নগদ প্রকল্পগুলি দরিদ্র এবং প্রান্তিক পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিয়ে থাকে। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এই প্রকল্পগুলি দীর্ঘদিন ধরে চলে এবং কোনও সময়সীমা বা এক্সিট প্ল্যান থাকে না। এমনকি যখন কর্মসংস্থান বা দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ কমে যায়, তখন মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বৃদ্ধি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।