হতে পারে অশান্তি! বাংলাদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা ট্রাম্প প্রশাসনের

Bangladesh Election

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে (Bangladesh Election) ঘিরে এবার অশান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে ওপার বাংলায় বসবাসরত মার্কিন জনসাধারণের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের তরফ থেকে নির্বাচন পূর্ববর্তী সময় এবং ভোটগ্রহণের দিন কী ধরণের সর্তকতা মেনে চলা প্রয়োজন, সেই সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করে সাত দফা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারি ভোট

প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। একই দিনে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট হবে। কিন্তু নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ, আন্দোলন বা বিক্ষিপ্ত হিংসার মতো ঘটনা ঘটছে। ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে অস্থিরতা। এমনকি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও অনেক ক্ষেত্রে হিংসায় রূপ নিচ্ছে। ফলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল।

এদিকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ সামনে আসছে। একাধিক ঘটনায় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন এবং খুনের অভিযোগে বাংলাদেশে উদ্বেগ দিনের পর দিন বাড়ছে। সেই আবহে মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এ বিষয়ে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের সময় সহিংসতা বা উগ্রপন্থী হামলার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্থান ও জনসভা সম্পূর্ণ এলাকাগুলোতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সেই কারণে মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশ্যে দূতাবাস পরামর্শ দিয়েছে, যে কোনও ধরনের সভা সমাবেশ বা বিক্ষোভ এড়িয়ে চলুন এবং বড় জনসমাগম থেকে দূরে থাকুন। আর চারপাশের পরিস্থিতির উপর সবসময় নজর রাখুন। পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্যারাকপুরের বিরিয়ানি মালিকের বউ পালাল ড্রাইভারের সাথে! অভিযোগ করে গ্রেফতার নিজেই

যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বাইক চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পাশাপাশি ১১ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি সমস্ত ধরনের যানবাহনের উপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। আর এই কারণে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ওই সময় তারা সীমিত পরিষেবা প্রদান করবে। এমনকি জরুরী প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোন সবসময় চার্জ দিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে নির্বাচনী হিংসা নতুন কোনও ঘটনা নয়। কারণ, পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৬৫৭ জন আহত হয়েছে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশঙ্কা আরও তৈরি হচ্ছে। ভোট ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনক্লাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। এরপর আরও কয়েকটি অশান্তির ঘটনাও সামনে আসে। এখন দেখার ভোটের সময় পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

Leave a Comment