ভারতীয় সেনা জাওয়ানদের প্রাণে বাঁচাবে ছোট্ট চিপ, নতুন আবিষ্কার DRDO-র

COURTESY-AI
DRDO New Chip that warns Indian soldiers of heart attack

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতীয় সেনা জাওয়ানদের বাঁচাতে এবার বিশেষ চিপ তৈরি করল দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং উন্নয়ন সংস্থা বা DRDO (DRDO New Chip)। জানা যাচ্ছে, দিল্লির মিরান্ড হাউস কলেজের সাথে যৌথ উদ্যোগে DRDO যে বিশেষ চিপ তৈরি করেছে তা সেনা জাওয়ানদের হার্ট অ্যাটাকের আগাম বার্তা দেবে। অর্থাৎ কার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি সেটাই আগে থেকে বলে দেবে DRDO র নতুন চিপ সেনসর BioFET। কিন্তু কীভাবে কাজ করবে এই চিপ?

কীভাবে সেনা জওয়ানদের বাঁচাবে এই চিপ?

ইন্ডিয়া টুডের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং উন্নয়ন সংস্থা যে ছোট্ট BioFet চিপ তৈরি করেছে তা মূলত সেনা জাওয়ানদের রক্ত সঞ্চালনকে নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। আর সেখান থেকেই কোন সেনা কর্মীর হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল সেটাই বলে দেবে এই সেনসর চিপ। এ প্রসঙ্গে, ক্ষুদ্র চিপ নিয়ে গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক মনিকা তোমার জানিয়েছেন, “যে বিশেষ ডিভাইসটা আমরা তৈরি করেছি তা মূলত রক্ত থেকে তিনটি বায়োমলিক্যুল সনাক্ত করতে পারে। ধরা যাক, কারও রক্তে এইসব মলিক্যুল বিপদ সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে, তখনই সেটি পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট হিসেবে সতর্কবার্তা দেবে এই বিশেষ চিপ।”

তোমার জানিয়েছেন, “রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করার যন্ত্র অর্থাৎ ব্লাড সুগার মাপার যন্ত্রের মতোই এই ছোট্ট চিপ বা ডিভাইসটি সহজে বহনযোগ্য। এর ফলে যে কোনও জায়গায় এই যন্ত্রটি নিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন সেনা কর্মীরা। তাতে সর্বদা সেনা জওয়ানদের রক্ত পর্যবেক্ষণ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে থাকবে ওই চিপ।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রচন্ড ঠান্ডায় কাজ করার সময় সেনা কর্মীদের শরীরে নানান সমস্যা দেখা দেয়। রক্ত ঘন হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। এর ফলের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। ঠিক তার আগেই এই চিপ রক্ত পরীক্ষা করে দেখে সতর্কবার্তা দেবে। সেই মতোই, সেনা কর্মীদের চিকিৎসা শুরু করা যাবে। এর ফলে বেঁচে যাবে বহু প্রাণ।

অবশ্যই পড়ুন: ৩০০০-র টিকিট মিলবে ১৫০০-তে? বাজেটে ট্রেনে ভ্রমণের খরচ কমাতে পারে রেল

প্রসঙ্গত, সেনা কর্মীদের জন্য দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং উন্নয়ন সংস্থা সহ দিল্লির মিরান্ড হাউস কলেজ যৌথ উদ্যোগে যে বিশেষ BioFet চিপ তৈরি করেছে, সেটিকে পূর্ণতা দিতে সময় লেগেছে কমপক্ষে 5 বছর। এ প্রসঙ্গে প্রধান গবেষক তোমার জানিয়েছেন, “চিপটিকে নিয়ে অন্তত তিন বছর গবেষণা করেছিলাম আমরা। ভালো ফল পাওয়ায় এরপর DRDO র সাথে হাত মিলিয়ে আরও দু’বছর কাজ করার পর এই যন্ত্রটি প্রস্তুত করতে পেরেছি। ইতিমধ্যেই তা তুলে দিয়েছি প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থার হাতে।” অনেকেই মনে করছেন, সেনা কর্মীদের জীবন বাঁচাতে বিশেষ যন্ত্র তৈরির মধ্যে দিয়ে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে এগিয়ে রাখল DRDO।

Leave a Comment