প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রীতিমত তাণ্ডব পরিস্থিতি বঙ্গ রাজনীতিতে। মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসনকে পাখির চোখ করে ভোটযুদ্ধে নেমেছে সকল রাজনৈতিক দল। এমতাবস্থায় কুলপিতে ঘটে গেল ভয়ংকর দুর্ঘটনা। জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে তৃণমূলের বুথ সভাপতির গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ (TMC Booth President Car Blast) হয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরণে উড়ে যায় অ্যাসবেস্টাসের ছাদ। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
তৃণমূল নেতার গাড়িতে বিস্ফোরণ
স্থানীয় রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা নাগাদ আচমকাই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপির গাজিপুর পঞ্চায়েতের ছামনাবুনি গ্রামে ভয়ংকর বিস্ফোরণ হয়। সেখানকার তৃণমূলের বুথ সভাপতি কুতুবউদ্দিন পাইকের গাড়িতে সেই বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাড়িটি। এবং উড়ে যায় গাড়ি রাখার অ্যাসবেস্টসের ছাদ। বিস্ফোরণের জেরে ছুটে আসেন আশেপাশের মানুষজন। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে কুলপি থানার পুলিশ। কীভাবে বিস্ফোরণ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের আবেদন স্থানীয়দের
এখনও কমিশনের তরফে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি, তার আগেই এইরূপ বিষ্ফোরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে। অভিযোগের আঙুল উঠছে বিজেপির বিরুদ্ধে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করছে গেরুয়া শিবির। তাঁদের দাবি তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরেই এই হেন পরিণতি। ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, বোমা মজুত করে রাখা হয়েছিল। তাতেই বিস্ফোরণ হয়েছে। তাঁরা শীঘ্রই সঠিকভাবে তদন্ত করা হোক এই দাবি তুলছে। যদিও এখনও পুলিশের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এই ঘটনাকে ঘিরে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা দায়িত্ব থেকে রাজ্যের ডিজি, কে এই পীযূষ পাণ্ডে?
প্রসঙ্গত, এর আগে দিনহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান কোহিনূর খাতুন বিবি ও ব্লক তৃণমূল মাইনরিটি সেলের সভাপতি মোজাফফর রহমান মিন্টুর বাড়িতে আচমকা বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়েছিল। ঘটনার পর সাহেবগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থল ঘিরে দেওয়া হয় পুলিশের তরফে। উদ্ধার করা হয় আরও একটি বোমা। এর পাশাপাশি আরও একটি বিস্ফোরণ হয়েছিল সাহেবগঞ্জ বাজার ও নতুন বিডিও অফিসের সামনে। নির্বাচনের আগে পর পর এই বিস্ফোরণের ফলে আতঙ্কিত স্থানীয়রা। পুলিশের তরফে অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।