সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ কোনও পুলিশ কর্মীর নাকি তিনি চিকিৎসা করবেন না! এক কোচবিহারের সরকারি চিকিৎসকের (Cooch Behar Doctor) এহেন ঘোষণায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে সর্বত্র। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কি হল তাঁর? একজন চিকিৎসক হয়ে তিনি এরকম কীভাবে ঘোষণা করতে পারেন? কোচবিহারের ওই চিকিৎসক কিন্তু এই ঘোষণা করেই থেমে থাকেননি। তিনি সোশ্যাল মিডিয়্যায় জেলা পুলিশের আধিকারিকদের ছবি দিয়ে কিছু মন্তব্য অবধি করেছেন যা পুলিশ মহলে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে। আরও বিশদে জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।
পুলিশ কর্মীদের চিকিৎসা করতে অস্বীকার চিকিৎসকের
আজ কথা হচ্ছে কোচবিহারের বিখ্যাত এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শল্য চিকিৎসা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর অসিত চক্রবর্তীকে নিয়ে। গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর কোচবিহার শহরের মিনা কুমারী চৌপথিতে তার ভাড়া করা ফ্ল্যাটে নগদ প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা চুরি হয়। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সেই টাকা রাখা ছিল। ওইদিন তিনি কোতোয়ালি থানায় বাড়িতে রান্নার কাজ করা মহিলা, নিরাপত্তা রক্ষী, এবং এক গ্যাস ডেলিভারিম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরে ১৮ অক্টোবর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। সেখানে আগের তিন জনের সঙ্গে নতুন করে নিজের গাড়িচালক এবং এক মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভের নামও তিনি যুক্ত করে দেন। তবে তারপরেও কিছু হয়নি বলে অভিযোগ অসিতের। এর ফলে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও পুলিশ কর্মীর চিকিৎসা তিনি করবেন না।
আরও পড়ুনঃ অনেকটাই দাম কমল সোনার, ৩৪ হাজার টাকা পতন রুপোর দর! দেখুন রেট
চিকিৎসক লেখেন, ‘কোচবিহারে একের পর এক চুরি হচ্ছে। ডাক্তারদেরও জিনিস চুরি হয়েছে। কারও কোনও জিনিস উদ্ধার হয়নি। কেউ গ্রেফতার হননি।’ তিনি আরও লেখেন, ‘পুলিশ সব সময় ডাক্তারদের বিরুদ্ধে। তাই দয়া করে আমার আউটডোরে বা ইনডোরে কোনও পুলিশ ট্রিটমেন্টের জন্য আসবেন না। এমজেএন মেডিকেল কলেজে কোনও পুলিশের ট্রিটমেন্ট করব না।’
কী বলছে পুলিশ?
এই ঘটনা প্রসঙ্গে এবার মুখ খুলেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার সন্দীপ কাররা জানান, ওই চিকিৎসকের বাড়িতে চুরির বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে তিনি এও যোগ করেন, ‘একজন সরকারি চিকিৎসক চিকিৎসার বিষয় নিয়ে এ ভাবে কিভাবে লিখতে পারে? কি ব্যবস্থা নেওয়া যায় দেখা হচ্ছে।’