প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে নিয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে। জনগণের আগ্রহ এবং দলের আকর্ষণ বাড়াতে দিন রাত খেতে চলেছে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। শাসকদলের তরফেও একের পর এক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় ফের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠে এল ঘাটালে (Ghatal)। জানা গিয়েছে, নির্বাচনের মুখে ঘাটালে সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পুত্রের চাকরি বাতিলের অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়।
ব্যাঙ্ক নিয়োগ দুর্নীতি ঘাটালে
নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত একের পর এক অভিযোগ সহ্য করে আসছে রাজ্য সরকার। কখনও শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি তো কখনও আবার শিক্ষাকর্মী নিয়োগে দুর্নীতি। যদিও সব মামলাই এখন আদালতের বিচারাধীন। এই অবস্থায় পুনরায় ব্যাঙ্কে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠে এল ঘাটালে। রিপোর্ট মোতাবেক, সমবায় ব্যাঙ্কের ঘাটাল শাখার অধীন ক্ষীরপাই শাখায় কর্মরত বোর্ডের চেয়ারম্যান মন্টু বাইরির ছেলে সৌমেন বাইরির নিয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়াও এই ব্যাঙ্কে আরও ১৮ জন কর্মীর নিয়োগের ক্ষেত্রেও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাই এবার সেই দুর্নীতি রুখতে তাঁদের নিয়োগ স্থগিতের আবেদন জানাল সমবায় দপ্তর।
বাতিল বিজ্ঞপ্তির আবেদন নিয়ে শোরগোল
ঘাটাল শাখার অন্তর্গত এই সমবায় ব্যাঙ্কে দীর্ঘদিন ধরে কর্মী নিয়োগ নিয়ে এক অসন্তোষমূলক পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। আর তাতেই শাসকের স্বজনপোষন ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গিয়েছে। মেধার চেয়ে ক্ষমতার অধিকার দেখিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের বদলে বাকিদের নিয়োগ করা হয়েছে, আর তাতেই উত্তাল ঘাটাল। বোর্ডের বিক্ষুব্ধ মেম্বার গোলাম মুস্তাফা জানিয়েছেন, ব্যাঙ্ক নাম মাত্র নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে এনেছিল। কিন্তু লুকিয়ে লুকিয়ে তাঁরা টাকা খেয়ে কর্মী নিয়োগ করেছিল। চরম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে। এদিকে সমবায় দপ্তরের নিয়োগ স্থগিত রাখার বিজ্ঞপ্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসতেই ফের প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
আরও পড়ুন: কুলপিতে তৃণমূল বুথ সভাপতির গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
প্রসঙ্গত, শাসকের স্বজনপোষন এবং মোটা টাকা লাভের আসায় নিয়োগ ক্ষেত্রে দুর্নীতির ছবি এর আগে দেখে নিয়েছিল রাজ্যবাসী। আর সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল কোটি কোটি টাকা। এখানেই শেষ নয়, জেল পর্যন্ত খাটতে হয়েছিল তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাদের। এমতাবস্থায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এইরূপ ঘটনা পুনরায় প্রকাশ্যে আসায় ফের যোগ্য শিক্ষিত যুব সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।