বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলাকে একের পর এক উপহার দিচ্ছে ভারতীয় রেল (Indian Railways)। আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে চালু হয়েছে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার। এরপর একে একে তিন তিনটি অমৃত ভারত পেয়েছে এ বঙ্গ। এখানেই শেষ নয়, ভোটমুখী বাংলায় একাধিক রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে রেলমন্ত্রক। এবার শোনা যাচ্ছে, যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবিকে মান্যতা দিয়ে অবশেষে হাওড়া-বর্ধমান মেন লাইনের সঙ্গে কর্ড লাইনকে সরাসরি জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছে রেল। এই বিশেষ প্রকল্পে মেন এবং কর্ড লাইন জুড়ে গেলে আদতে সুবিধা হবে হুগলী, বর্ধমান সহ বাঁকুড়া জেলার যাত্রীদের।
যাত্রীদের কষ্ট কমাতে বিশেষ উদ্যোগ রেলের
হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনের সঙ্গে আগেই যুক্ত করা হয়েছিল বাঁকুড়া দামোদর রিভার রেল লাইনটিকে। তবে এই মুহূর্তে হাওড়া থেকে বর্ধমান মেন লাইনের সঙ্গে কর্ড লাইনের কোনও যোগাযোগ নেই। যার ফলে বর্ধমান থেকে হুগলীর তারকেশ্বর অথবা বাঁকুড়া থেকে তারকেশ্বর আবার তারকেশ্বর থেকে বাঁকুড়া বা বর্ধমান যাওয়ার ক্ষেত্রে যাত্রীদের ঘুর পথে যাতায়াত করতে হয়। তাতে ভোগান্তির শেষ নেই তাঁদের।
বর্ধমান, হুগলী এবং বাঁকুড়া এই তিন জেলার সাধারণ রেল যাত্রীদের যাতে ভোগান্তি কমে এবং তাঁরা যাতে সহজেই এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত করতে পারেন সেই লক্ষ্যেই এবার হাওড়া-বর্ধমান মেন লাইনের সাথে কর্ড লাইনটিকে জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় রেলওয়ে। এই বিশেষ প্রকল্পের অধীনে তৈরি হবে নতুন রেল লাইন।
অবশ্যই পড়ুন: কলকাতা পুরসভার অনুমতি ছাড়া বাড়ির ছাদে লাগানো যাবে না লোহার শেড
রেলের কয়েকটি সূত্র দাবি করছে, বিশেষ প্রকল্পের আওতায় এবার হাওড়া থেকে বর্ধমান মেন লাইনের রসুলপুর থেকে কর্ড লাইনের পাল্লা রোড পর্যন্ত কম করে 7 কিলোমিটারের নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। একই সাথে মশাগ্রাম-বাঁকুড়া লাইনের মাথনশিপপুর স্টেশনটিকে হল্ট থেকে উন্নীত করে স্টেশনে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা করছে রেল। এই দুই লাইন ছাড়াও মাথনশিপপুর থেকে হুগলীর জঙ্গলপাড়া পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের কাজেও হাত লাগাবে ভারতীয় রেলওয়ে।
সূত্রের খবর, মেন লাইনকে কর্ড লাইনের সাথে যুক্ত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই নাকি রেলের তরফে প্রায় 78 কিলোমিটার রেলপথে বিশেষ সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভোটমুখী বাংলায় নতুন রেললাইন স্থাপন করে মেন এবং কর্ড লাইন সংযুক্তিকরণের মধ্যে দিয়ে বর্ধমান, হুগলী এবং বাঁকুড়া এই তিন জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্যে ময়দানে রেল।