বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: খেপে খেপে সংঘর্ষ বেঁধেছে পাকিস্তানের অন্যতম প্রদেশ বালুচিস্তানে (Terrorist Attack On Balochistan)। স্বাধীনতাকামি বালুচ বিদ্রোহীদের বিদ্রোহের আগুনে ঝলসেছে বহু পাক সেনার দেহ। শুক্রবার থেকে নতুন করে বালুচিস্তানের একাধিক শহরে হামলা চালায় বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি। হামলা চলে পুলিশ স্টেশন সহ পাক সেনার উপরেও। যেই ঘটনায় ইতিমধ্যেই 70 জন জঙ্গি ও 10 জন নিরাপত্তারক্ষী মিলিয়ে মোট 80 জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। যেই ঘটনায় এবার মুখ খুলেছে বালুচ প্রদেশের সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ।
12টি শহরে জোরালো হামলা চালিয়েছে BLA
আল জাজিরা সহ অন্যান্য সংবাদসংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বালুচিস্তান। পাকিস্তানের এই প্রদেশের অন্তত 12টি শহর, কোয়েটা থেকে শুরু করে গাদার, মাকরান, চমন, নাসিরাবাদ, মুশকি, হাব সহ একাধিক এলাকায় জোরালো হামলা চালিয়েছে, বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি। যেই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছেন বালুচ প্রদেশের পাক সরকারের মুখপাত্র শাহিদ। তিনি জানিয়েছেন, বালুচিস্তানের জঙ্গিরা দফায় দফায় বিভিন্ন শহরে পুলিশ স্টেশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, “বালুচিস্তানের জঙ্গিরা পুলিশ পোস্ট সহ ফ্রন্টিয়ার কর্পসের ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে ভয়ানক হামলা চালায়। তবে নিরাপত্তারক্ষীরা প্রথম থেকেই সতর্ক ছিল বলে ওই হামলা ঠেকিয়ে দেওয়া গিয়েছে। সেই সাথে বিভিন্ন অঞ্চলের রেললাইনে পাতা হয়েছিল বিস্ফোরক। সেগুলিও আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী নিষ্ক্রিয় করেছে। এ ঘটনায় মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভিও। তাঁর বক্তব্য, বালুচ বিদ্রোহীদের হামলায় ইতিমধ্যেই 10 জন নিরাপত্তারক্ষির মৃত্যু হয়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: বন্ধ হয়ে গেল কোচবিহার-কলকাতার বিমান পরিষেবা
উল্লেখ্য, বালুচিস্তানের একের পর এক শহরে শুক্রবার থেকে ঘটে চলা হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করে নিয়েছে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি। গতকাল অর্থাৎ শনিবার তাঁরা বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেয়, তাঁরা অপারেশন হেরোফের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করে দিয়েছে গোটা বালুচিস্তান জুড়ে। শুধু তাই নয়, লিবারেশন আর্মির তরফে এও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্ট এর দফতর এখন তাদের দখলে। দখল করা হয়েছে ফ্রন্টিয়ার কর্পসও। বালুচ বিদ্রোহীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, একের পর এক নিরাপত্তারক্ষীর প্রাণ নেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনেও এই লড়াই চালিয়ে যাবে তারা। আর এসবের মধ্যে দিয়ে বালুচিস্তান ক্ষমতা ছাড়া হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে পাক সরকারের!