সৌভিক মুখার্জী, পূর্বস্থলী: এসআইআর-র বিরুদ্ধে ডাকা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ সভা ঘিরে এবার চরম উত্তেজনা। হ্যাঁ, পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে (Purbasthali) ঘটেছে ধুন্ধুমার কাণ্ড। সভা চলাকালীন ফাঁকা মাঠের ভিডিও এবং ছবি তোলার অভিযোগের সাংবাদিকদের উপরেই মারমুখী আচরণের অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের ক্যাডারদের বিরুদ্ধে। এমনকি একাধিক সাংবাদিকের স্মার্টফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাতে থাকা সমস্ত ছবি এবং ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগে উঠেছে।
ঘটনাটি কী ঘটেছিল?
স্থানীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার বিকালে পূর্বস্থলী স্টেশন সংলগ্ন মাঠে এসআইআর এর বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভার বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় সহ দলীয় একাধিক নেতা। তবে শুরুতে মাঠে প্রচুর সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি থাকলেও মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের বক্তব্য শুরু হতেই ধীরে ধীরে শ্রোতারা মাঠ ছাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে ফাঁকা মাঠে কার্যতে বক্তব্য চালিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি। এই দৃশ্য শাসকদলের অস্বস্তি বাড়িয়ে তোলে।
এদিকে এই পরিস্থিতির মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা ফাঁকা মাঠের ছবি এবং ভিডিও তুলতে শুরু করে। অভিযোগ, তখনই ক্ষিপ্ত হয়ে তৃণমূলের কয়েকজন ক্যাডার সাংবাদিকদের ‘বিজেপির দালাল’ বলে কটাক্ষ করা হয় এবং শারীরিকভাবে আক্রমণের হুমকিও দেওয়া হয়। এমনকি সেখানে একজন মহিলা সাংবাদিকও ছিলেন বলে খবর। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকেও ছাড় দেওয়া হয়নি। মারমুখী ক্যাডাররা সাংবাদিকদের হাত থেকে স্মার্টফোন নিয়ে তাতে থাকা সমস্ত ভিডিও এবং ছবি মুছে দেয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে চরম আতঙ্কে পড়েন সাংবাদিকরা। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করতে থাকেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তাঁর উদ্যোগেই সাংবাদিকরা তৃণমূল কর্মীদের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে খবর। তবে এই ঘটনা নিয়ে গোটা এলাকায় শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা।