সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চিনের উপর ভারতের বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থের নির্ভরতা কমাতে এবার বিরাট ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে (Union Budget 2026) তিনি জানিয়েছেন, দেশের চারটি খনিজ সমৃদ্ধ রাজ্যে বিশেষ রেয়ার আর্থ করিডর গড়ে তোলা হবে। আর সেই রাজ্যগুলি হল তামিলনাড়ু, কেরল, ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ।
কী উদ্দেশ্যে বানানো হবে এই রেয়ার আর্থ করিডর?
রবিবার বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে রেয়ার আর্থ পার্মানেন্ট ম্যাগনেট প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। এবার সেই উদ্যোগকে শক্তিশালী করার জন্য ওড়িশা, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুকে কেন্দ্র করে পৃথক রেয়ার আর্থ করিডর গড়ে তোলা হবে। এই করিডরের মাধ্যমে বিরল খনিজের খনন, প্রসেসিং ও পরিশোধন, গবেষণা উন্নয়ন, উৎপাদন ও ম্যানুফ্যাকচারিং একই ছাতার তলায় আসবে।
কী কাজে লাগে রেয়ার আর্থ?
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, রেয়ার আর্থ ১৭টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সমন্বয়, যা আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় প্রতিটি স্তম্ভে ব্যবহার করা হয়। যেমন স্মার্টফোন বা অন্যান্য যে কোনও ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র, ইলেকট্রনিক গাড়ি, উইন্ড টার্বাইন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থায় এটি ব্যবহার করা হয়। বর্তমান সময়ে এই খাতে চিন একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে। আর বিশ্বব্যাপী রেয়ার আর্থ খননের প্রায় ৬০% এবং পরিশোধিত উৎপাদনের প্রায় ৯০% থাকে চিনের হাতে। ফলের চিন যখনই রফতানি নীতিতে টানাপোড়েন ঘটায়, তখন বিশ্বের বহু দেশ সংকটে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রেয়ার আর্থ করিডর চালু হলে চিনের উপর ভারতের নির্ভরতা অনেকটাই কমবে এবং দেশীয় শিল্প ও প্রযুক্তি স্বনির্ভরতা বাড়বে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা এবং সবুজ শক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এমনকি একইসঙ্গে খনিজ সমৃদ্ধ রাজ্যগুলিতে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিলাসিতায় বসল খাড়া! কেন্দ্রের বাজেটে কোন পণ্যের দাম বাড়ল, সস্তা হল কী কী?
তবে এই ঘোষণার রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করছে বিশেষজ্ঞরা। কারণ, চারটি রাজ্যের মধ্যে তামিলনাড়ু এবং কেরলে চলতি বছরে নির্বাচন। ফলে এই রাজ্যগুলির শিল্প এবং কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব পাবে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। এমনকি অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, আত্মনির্ভর ভারত গড়া এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বড়সড় ঘোষণা করেছেন তিনি।