সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের দুটি প্রাচীন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবার একসঙ্গে মিশে যাচ্ছে (Bank Merger) বলে খবর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ব্যাঙ্কদুটি ডিউ ডিলিজেন্স প্রক্রিয়াঊ রয়েছে। যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া যাচাই এবং অপারেশনাল সংহতি তৈরি হচ্ছে। কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, এই মার্জার বছরের শেষে সম্পন্ন হতে পারে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র ব্যাঙ্কিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার চাইছে ছোট ব্যাঙ্কগুলিকে বড় ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত করে মোট চার থেকে পাঁচটি বৃহৎ পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক তৈরি করতে। বর্তমানে দেশে মোট বারোটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক রয়েছে, যা এই পরিকল্পনার পর আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তৈরি হবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক
মার্জারের পর এই নতুন সংস্থা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক হিসেবেই আবির্ভূত হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ অনুযায়ী এর সম্পদ প্রায় ২৫.৪ লক্ষ কোটি টাকা দাঁড়াবে। আর শাখা নেটওয়ার্ক এবং গ্রাহক সংখ্যা বাড়বে বলে খবর। এছাড়া বাজার মূলধনের দিক দিয়ে মার্জড এনটিটি প্রায় ২.১৩ লক্ষ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকবে, যা ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, কানারা ব্যাঙ্ক এবং পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক কেউ ছাড়িয়ে যাবে। বলে দিই, বর্তমানে ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া যথাক্রমে পঞ্চম ও ষষ্ঠ বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক।
আরও পড়ুন: কৃষ্ণনগর-আমঘাটার পর নদিয়া জেলা পাবে আরও একাধিক রেল লাইন, কোথায় কোথায়?
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ার প্রধান চ্যালেঞ্জ হতে পারে প্রযুক্তিগত সংহতি। কারণ, দুটি ব্যাঙ্কের কোর ব্যাঙ্কিং সিস্টেম এবং ডিজিটাল আর্কিটেকচারের পার্থক্য রয়েছে। সেই কারণে গ্রাহক এবং অভ্যন্তরীণ অপারেশনগুলির ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম সমস্যা তৈরি হতে পারে। এমনকি উভয় ব্যঙ্ক সাম্প্রতিক ত্রৈমাশিকে অ্যাসেট কোয়ালিটি ও লাভজনক আয়ে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি দেখিয়েছে। জানিয়ে রাখি, এই মার্জিং ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মেগা পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক মার্জার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা তা বলা যায়। সেই সময় ২৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে ১০টি ব্যাঙ্ক চারটি বৃহৎ সংস্থায় মিশে গিয়েছিল। আর এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমে ১২-তে দাঁড়িয়েছে।