বঙ্গভবনে কড়া নজরদারি দিল্লি পুলিশের, গর্জে উঠলেন মমতা

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই দিন এগিয়ে আসছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের। তাইতো ভোটপ্রচারের প্রস্তুতিতেও চলছে ব্যস্ততা। এদিকে আবার শুরু থেকেই বঙ্গে বিতর্ক বাড়াচ্ছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার। শাসকদলের তরফে একের পর এক অভিযোগ উঠে এলেও কোনো রকম পাত্তা দিচ্ছে না কমিশনার। তাই এবার জবাব চাইতে কমিশনের দফতরে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এদিকে আজ সকাল থেকেই হঠাৎ করে বঙ্গভবন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করে দিল্লি পুলিশ। শুরু হয় গণ্ডগোল, যা নিয়ে গর্জে উঠলেন মমতা।

বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে হ্যালি রোড

সূত্রের খবর, পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ বিকেল ৪টেয় দিল্লিতে কমিশনের সদর দফতর নির্বাচন সদনে যাবেন মমতা। তাঁর সঙ্গে যাবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ কয়েক জন সাংসদ। এ ছাড়াও, ‘SIR আতঙ্কে’ মৃতদের পরিবারের কয়েক জন সদস্য তৃণমূলের প্রতিনিধিদলে থাকতে পারেন। তাঁদের মধ্যে অনেকের পরিবার আগেই পৌঁছে গিয়েছে দিল্লিতে। আপাতত বঙ্গভবনে অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। এমতাবস্থায় দিল্লির বঙ্গভবনেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি পদক্ষেপ নিল দিল্লি পুলিশ। গাড়ি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যারিকেড করে দেওয়া হল বঙ্গ ভবন। বন্ধ করে দেওয়া হল হ্যালি রোড।

গর্জে উঠলেন মমতা

জানা গিয়েছে সকাল থেকেই উত্তাপ বাড়ছে রাজধানী দিল্লিতে। দিল্লি পুলিশের আচমকা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তৎপরতা দেখে সকলেই হতবাক। অভিযোগ, বঙ্গভবনের ঘরে ঘরে তল্লাশিও চালানো হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বঙ্গভবনে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সঙ্গে রয়েছেন অভিষেকও। সেখানে দিল্লি পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’র প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন তিনি। মমতা বলেন, “সকাল থেকে বঙ্গভবন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ দিয়ে ভর্তি করে দিল। ঘরে ঘরে তল্লাশি চালাচ্ছে। এটা দিল্লি পুলিশ করতে পারে না। এসআইআরের জন্য মৃতদের পরিবারের লোকজন আমাদের সঙ্গে এসেছেন। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি এগুলি দেখতে। আপনি বাংলায় আসলে রেড কার্পেট পেতে রাখি। আর আমরা দিল্লিতে আসলে কালো কার্পেট?”

স্বজনহারা পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারও কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা, তার দেখভাল করেন। মমতা আশ্বাস দিয়ে বলেন, “চিন্তা করবেন না। আমি আছি।” এরপরই সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাকে কি দেখাচ্ছেন, কীভাবে বঙ্গভবন ঘিরে রেখেছে দিল্লি পুলিশ তা দেখান।” সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরা ঘোরে সেদিকে। আর তা দেখে যেন কিছুটা পিছু হঠে দিল্লি পুলিশ।

শনিবারও পাঠানো হয়েছিল চিঠি

এসআইআর-এর কাজ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গত শনিবার ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকে চিঠি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ করেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কমিশন যে পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করছে, তা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং তার অধীনে প্রণীত বিধি-বিধানের সীমা অতিক্রম করেছে। যদিও সেই চিঠি নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি নির্বাচন কমিশন। এর আগে এই সংক্রান্ত পাঁচটি চিঠি দিয়েছিলেন তিনি। তাই সেক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে আজকের বৈঠক রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

আরও পড়ুন: খাস কলকাতায় মুহুর্মুহু ফায়ারিং, বোমাবাজি! ঢাকুরিয়া কাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূল ঘনিষ্ঠ সোনা পাপ্পু

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে মমতার বৈঠক প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শঙ্কর ঘোষ বলেন, উনি যখন বৈঠক করতে যাচ্ছেন, তখন উনি যেন এসআইআর শুনানি কেন্দ্রের তাণ্ডবের কথাও বলে আসেন। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি জোর দেওয়া দেখে তৃণমূল দাবি করছে যে, দিল্লি পুলিশ ভয় পেয়েছে। জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “ভারত স্বাধীন রাষ্ট্র, সংবিধান আছে, নির্বাচন কমিশন আর সুপ্রিম কোর্টের থেকে তো সরকার আলাদা, তাহলে দিল্লির সরকার ভয় পেল কেন?”

Leave a Comment