প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হুলুস্থুল কাণ্ড শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। মুখ্যমন্ত্রীর আসন দখল করাকে কেন্দ্র করে শাসকদল এবং বিরোধীদের মধ্যে জোর টক্কর শুরু হয়েছে। তাইতো জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে ময়দানে নেমে পড়েছে সকলে। এমতাবস্থায় ভোটে হাবড়ার প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে শুরু হল নয়া জল্পনা। রবিবার, প্রাক্তন মন্ত্রী ও হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের (Jyotipriya Mallick) মুখে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে শোনা গেল অন্য সুর।
উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ রবিবার, হাবড়া বিধানসভা এলাকার হাবরা হাসপাতাল এবং হাবরার বিভিন্ন স্কুলের বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজের শুভ সূচনা করেন হাবরার বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এদিন হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সামনে দু’টি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুল্যান্স, হাবড়া হাসপাতালে ১টি জেনারেটর ও হাসপাতালে নতুন বিল্ডিংয়ের সামনে হাই মাস্ট লাইট, সিসি ক্যামেরার মনিটর, হাসপাতালে ও স্কুলে স্কুলে সিলিং ফ্যান, লাইট, ঠান্ডা পানীয় জলের মেশিন প্রদান, হাবড়া উদ্বাস্তু প্রাথমিক শিক্ষা নিকেতন স্কুলের সংস্কারের জন্য অর্থ সহযোগিতা ইত্যাদি কর্মসূচি ছিল। সেই সময় ওই মঞ্চে থেকে তিনি জানান, “হাবড়ার জন্য অনেক কিছু করেছি, তবে এখনও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আমি না থাকলেও পুরপ্রধান রয়েছেন, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রয়েছেন, তাই কোনও কাজ আটকে থাকবে না।” আর তাতেই প্রশ্ন ওঠে তবে কি তিনি এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে দাঁড়াচ্ছেন না?
কী বলছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক?
হাবড়ার মঞ্চে দাঁড়িয়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, “২০১১ সালের পর থেকে হাবরার মানুষকে বহু উন্নয়নমূলক কাজ উপহার দেওয়া হয়েছে। হাবরার মানুষ শান্তি চায়। হাবরার মানুষের পালস আমরা বুঝি। তাই এবারও হাবরার মানুষ তৃণমূলকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করাবেন। আমি দলের অনুগত সৈনিক। আমার কাছে কোনও ব্যাপার নয়। দলটাই বড় ব্যাপার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলার মানুষের জন্য প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন। কথায় আছে যে যত বেশি পরিশ্রম করবে তার ফল পাবে।” এছাড়াও এদিন দলের নেতা কর্মীদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় বলেন, “আমি থাকি কি না থাকি, কোনো ব্যবসায়ীর থেকে যেন এক টাকাও চাঁদা না নেওয়া হয়। আমি গাইঘাটাতেও এটা করে দিয়ে এসেছি। চাঁদার প্রয়োজন হলে দলের নেতা-কর্মীরা নিজেদের পকেটের থেকে টাকা দেবে। কোনও ব্যবসায়ীর সঙ্গে উৎপাত করা যাবে না।”
আরও পড়ুন: বঙ্গভবনে কড়া নজরদারি দিল্লি পুলিশের, গর্জে উঠলেন মমতা
অনুষ্ঠান শেষে মঞ্চ থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নামের সময় ঘিরে ধরেন সাংবাদিকরা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হাবরায় দাঁড়াচ্ছেন কি না প্রশ্ন করায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘এই বিষয়টি দল ঠিক করবে। দল যেখানে দাঁড়াতে বলবে সেখানেই প্রার্থী হব।’ যদিও তাঁর মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এদিকে, জ্যোতিপ্রিয়কে কটাক্ষ করে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস মিত্র বলেন, “উনি বুঝতে পেরেছেন ছাব্বিশের ভোটে হাবড়া কেন্দ্র থেকে তাঁর পরাজয় নিশ্চিত । তাই, তিনি আসন বদলাতে চাইছেন।” প্রসঙ্গত, বাম আমল থেকেই গাইঘাটার বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এরপর ২০১১ সালে রাজ্যের পালাবদলের সময় থেকে হাবরা বিধানসভায় টানা তিনবার জিতেছেন। এখন দেখার পালা হাবড়াতে পুনরায় সে প্রার্থী হতে পারেন কিনা।