সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: প্রয়াত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে বহু প্রতীক্ষিত নথি (Epstein files) প্রকাশ করতে শুরু করেছে মার্কিন বিচার দফতর। ছবি থেকে শুরু করে ভিডিও, ইমেইল এবং তদন্ত সংক্রান্ত হাজার হাজার পৃষ্ঠার এই নথিগুলি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল। এমনকি সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম পর্যন্ত উঠে এসেছে। কংগ্রেসের আইনি নির্দেশ অনুযায়ী, ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ নথি প্রকাশের কথা থাকলেও বিচার দফতর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এখনও কয়েক লক্ষ পৃষ্ঠা খতিয়ে দেখা বাকি। তাই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমস্ত নথি প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
কী এই এপস্টিন ফাইলস?
জানিয়ে রাখি, যৌন অপরাধি এবং ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জেফ্রি এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নথিপত্রগুলোকেই মূলত এই এপস্টিন ফাইলস বলা হয়, যেটি মার্কিন রাজনীতিতে এখন বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আর গত কয়েক মাস ধরেই এই ফাইলগুলি প্রকাশের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উপর চাপ তৈরি হচ্ছিল। এমনকি রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও ওঠে বিভিন্ন রকম দাবি। দীর্ঘ সময় এই সমস্ত গোপন নথি প্রকাশের বিরোধিতা করার পর অবশেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরব হয়েছেন।
কেন বিতর্কে এই এপস্টিন ফাইলস?
সম্প্রতি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লঁশে জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কয়েক লক্ষ নথি যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। তবে বহু আইন প্রণেতার অভিযোগ, আইনে স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নথিগুলির অতিরিক্ত অংশ কালো করে দেওয়া হয়েছে। আর আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র এপস্টিনের নির্যাতিতাদের পরিচয়, অযথা চলমান তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য, এই দুটি ক্ষেত্রে তথ্য গোপন রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রকাশিত নথির মধ্যে ২০১৯ সালের কিছু এফবিআই ইমেল বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সেখানে এপস্টিন মামলায় ১০ জন সম্ভাব্য সহযোগীর কথা উল্লেখ রয়েছে। আর ওই ইমেল অনুযায়ী, ছয়জনকে ইতিমধ্যেই শুনানিতে পাঠানো হয়েছিল আর চারজনকে তখন শুনানি দেওয়া বাকি ছিল। এমনকি এর মধ্যে একজনকে ওহাইওর ধনী ব্যবসায়ী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর পরবর্তী একটি ইমেলে দুটি নাম রেডাক্ট করা হয়নি। তাঁরা হলেন ঘিসলিন ম্যাক্সওয়েল এবং লেস ওয়েক্সনার। উল্লেখ্য, ঘিসলিন ম্যাক্সওয়েল ইতিমধ্যে নাবালক পাচারের দায়ে ২০ বছরের সাজা পেয়েছেন।
আরও পড়ুন: গ্র্যামির মঞ্চে বিরাট সম্মানে ভূষিত দলাই লামা, কোন বিভাগে পেলেন পুরস্কার?
ট্রাম্পের নাম রয়েছে নথিতে
এদিকে প্রকাশিত নথিতে বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও উঠে এসেছে। একটি মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে যে, ১৯৯০ এর দশকে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসর্টে এপস্টিন এক ১৪ বছরের কিশোরীকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তবে নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কিশোরী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনও রকম নির্যাতনের অভিযোগ দেননি। এমনকি ট্রাম্প সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে আরও একটি ইমেলে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে অন্তত আটবার এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে সফর করেছিলেন। যদিও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই নথির কিছু অংশ অসত্য আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।