দিল্লির নির্বাচন সদনে মমতা, অভিষেক! শুরু হল বৈঠক, প্রতিবাদে প্রত্যেকের গায়ে কালো চাদর

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: যেহেতু সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন তাই এই সময় পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু শুরু থেকেই এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। একের পর এক চিঠি পাঠানো হয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে। কিন্তু মেলেনি কোনো সুরাহা। তার উপর আত্মহত্যা করে চলেছে একের পর এক ভোটার। এমতাবস্থায় SIR ইস্যুতে আলোচনা করতে নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক।

নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন সদনে পৌঁছন মমতা

রিপোর্ট মোতাবেক, জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে মমতার বৈঠককে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই আচমকা নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল দিল্লির বঙ্গভবনের। বন্ধ করে দেওয়া হয় হ্যালি রোড, একেবারে ঘিরে রেখেছে দিল্লি পুলিশের বিশাল বাহিনী। আর তাই নিয়ে বেশ গর্জে উঠেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বঙ্গভবনের ভিতরে তল্লাশি চালানো নিয়ে রীতিমত ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেন মমতা। চ্যালেঞ্জ ছোড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে। SIR আতঙ্কে মৃত পরিবারকে ভয় না পাওয়ার আশ্বাসও দেন মমতা। আর এবার পালা বৈঠকের। নির্ধারিত সময়েই বিকেল ৪টের পর নির্বাচন সদনে পৌঁছন মমতা, অভিষেক।

সকলের পরনেই ছিল কালো পোশাক!

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জীবিত হলেও নির্বাচন কমিশনের খাতায় ‘মৃত’, এমন ৫০ জন ভোটারকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়েছে। এ ছাড়া, নিয়ে যাওয়া হয়েছে আরও ৫০ জনকে যাঁদের পরিবারের কোনও না কোনও সদস্য ‘এসআইআর-এর কারণে’ মারা গিয়েছেন। তবে সবাইকে নয় তাঁদের মধ্যে কয়েক জনকে নিয়ে কমিশনের দফতরে যান মমতা। ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সকলের পরনেই ছিল কালো পোশাক। এরপরেই নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শুরু হল তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের। জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও দুই নির্বাচন কমিশনারও রয়েছেন এই বৈঠকে।

আরও পড়ুন: বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের, কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রসঙ্গত, এসআইআর-এর কাজ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গত শনিবার ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকে চিঠি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ করেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কমিশন যে পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করছে, তা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং তার অধীনে প্রণীত বিধি-বিধানের সীমা অতিক্রম করেছে। যদিও সেই চিঠি নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি নির্বাচন কমিশন। এর আগে এই সংক্রান্ত পাঁচটি চিঠি দিয়েছিলেন তিনি।

Leave a Comment