সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সম্প্রতি মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়াতে ভারতের বস্ত্র শিল্প বিরাট চাপের মুখে পড়েছিল। তবে এবার কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget 2026) থেকে বিরাট ইঙ্গিত মিলল। ইউনিয়ন বাজেট ২০২৬ বস্ত্র খাতের জন্য একাধিক প্রকল্প আর সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে ইতিবাচক কথা শোনাল। কিন্তু একই সঙ্গে তুলো আমদানিতে শুল্ক বজায় থাকার কারণে বাড়ছে চিন্তা।
বাজেটে বিরাট স্বস্তি পেলে বস্ত্র খাত
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটে ঘোষিত বিভিন্ন প্রকল্প বস্ত্র শিল্পের গোটা ভ্যালু চেইন অর্থাৎ কাঁচামাল থেকে রফতানি পর্যন্ত শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। এ বিষয়ে ক্রিসিল রেটিংসের ডিরেক্টর গৌতম শাহি জানিয়েছেন, বাজেটে ঘোষিত প্রকল্পগুলি এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে ভারতের বস্ত্র শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ অধিকার যে বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এদিকে কটন টেক্সটাইল এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিজয় আগরওয়াল বলেছেন, ইন্টিগ্রেটেড টেক্সটাইল ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র ক্লাস্টারগুলিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন ফাইবারের উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, SEZ থেকে ডোমেস্টিক ট্যারিফ এরিয়ার কম শুল্কে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। পাশাপাশি কুরিয়ার রফতানিতে ১০ লক্ষ টাকার সীমা তুলে নেওয়া হবে।
পোশাক এবং রফতানি শিল্প নিয়ে কী বলা হচ্ছে?
অ্যাপারেল এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এ শক্তিবেল জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ ভারতের বস্ত্র এবং পোশাক শিল্পকে আত্মনির্ভর করবে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক রোড ম্যাপ স্পষ্ট করছে। অন্যদিকে তিরুপ্পুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম সুব্রহ্মণ্যম জানিয়েছেন, এই প্যাকেজে সরবরাহ সংস্কার, কৃষক থেকে কারখানা সংযোগ এবং রফতানির চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকছে।
এদিকে সাউথ ইন্ডিয়া মিলস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান দুরাই পালানিস্বামী বলেছেন, ক্যাপিটাল সাপোর্ট স্কিম ফর মডার্নাইজেশন শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তিতে আপডেট করতে সাহায্য করবে। কিন্তু তাঁর দাবি, সমস্ত ধরনের তুলোর ওপর থাকা ১১% আমদানি শুল্ক তুলে নেওয়া উচিত। তাহলে সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি আমেরিকাকে টপকে গেল ভারত, রিপোর্ট দেখিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য মাস্কের
চিন্তা বাড়াচ্ছে তুলো শিল্প
তবে হ্যাঁ, বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সংগঠন তুলো, MMF এবং অন্যান্য ফাইবার কাস্টমস ডিউটি বজায় থাকার কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে টেক্সটাইল অ্যাসোসিয়েশন ইন্ডিয়ার সভাপতি আর কে বিজয় বলেছেন, ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকনিক্যাল টেক্সটাইলে জোর দেওয়া হয়েছে ঠিকই। তবে কাঁচামালের শুল্ক সমস্যার সমাধান হলে শিল্প আরও উপকৃত হতো।