সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি (India EU Trade) দেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হলেও এর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে পাকিস্তান। দেশটির প্রাক্তন বাণিজ্য মন্ত্রীর মতে, এই চুক্তির ফলে ইউরোপীয় বাজারে পাকিস্তানের রফতানি সুবিধা কার্যত শেষের পথে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা আর কর্মসংস্থানের উপর।
শেষ হতে চলেছে পাকিস্তানের শূন্য শুল্কের সুবিধা
রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিন পাকিস্তানের প্রাক্তন বাণিজ্যমন্ত্রী এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাকিস্তানের ‘zero-tariff honeymoon’ এখন শেষ। তিনি জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের GSP+ স্কিমের আওতায় পাকিস্তান এতদিন প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের রফতানি করেছিল। যেখানে ২ তৃতীয়াংশ শুল্ক ছাড় পাওয়া যেত। তবে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তি কার্যকর হলে একই শুল্ক কাঠামো ভারতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ফলত, পাকিস্তানে যে সামান্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ছিল, সেটাও হারিয়ে যাবে।
পাকিস্তানে ঝুঁকিতে ১ কোটি চাকরি
এদিকে প্রাক্তন মন্ত্রীর মতে, পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংকটজনক। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পাকিস্তানের ৯ বিলিয়ন ডলারের রফতানি ঝুঁকির মুখে। পাশাপাশি সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে ১ কোটির বেশি কর্মসংস্থান বিপদের আশঙ্কায়। তিনি আরও বলেছেন, পাকিস্তানের শিল্প কেন্দ্র আর উচ্চ বিদ্যুৎমূলক কর কাঠামো এবং ব্যয়বহুল অর্থায়নের বোঝা বইতে পারবে না। এখনই কঠিন সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি হয়তো ভবিষ্যতে আরও খারাপ হবে।
আরও পড়ুন: দক্ষিণবঙ্গে কমল পারদ, ফের কামব্যাক করবে শীত? আগামীকালের আবহাওয়া
সবথেকে বড় ধাক্কা টেক্সটাইল শিল্পে
টাইমস অফ ইসলামাবাদের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই চুক্তির সবথেকে বড় প্রভাব পড়বে পাকিস্তানের বস্ত্র আর পোশাক শিল্পে, যা দেশের সবথেকে বড় শিল্প বিনিয়োগকারী ক্ষেত্র এবং এককভাবে সর্বোচ্চ রফতানি আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়াবে। এমনকি পাকিস্তান ব্যরো অফ স্ট্যাটিসটিক্স অল পাকিস্তান টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থর্ষে মোট পণ্য রফতানি ৬০% টেক্সটাইল পোশাক থেকে এসেছে। আর এই রফতানির অংক প্রায় ১৬.৫ বিলিয়ন ডলারের পৌঁছেছে, যার সবথেকে বড় অংশ গিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যের বাজারে।