বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: টানা দু বছরের মধ্যে পরপর ভারতীয় বিমানবাহিনীর গর্ব দুটি স্বদেশী তেজস যুদ্ধবিমান হারিয়েছে ভারত (Indian Air Force)। 2024 সালে প্রথমবারের মতো তেজস এমকে1 হাতছাড়া হয় ভারতের। এরপর 2025 অর্থাৎ গত বছর দুবাইতে হওয়া ভারতীয় বায়ুসেনার প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে আচমকা ভেঙে পড়ে বিমান বাহিনীর আরও একটি তেজস। মূলত সে কারণেই এবার দুটি তেজস যুদ্ধবিমানের ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই অত্যাধুনিক তেজস এমকে1 পেতে চলেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। নবভারত টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দুই যুদ্ধবিমান হবে আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম হাতিয়ার। শত্রুর রাডারকে জ্যম করে অর্থাৎ ফাঁকি দিয়ে হামলা চালানোর ক্ষমতা থাকবে এই দুই যুদ্ধবিমানের।
কী কী বৈশিষ্ট্য থাকবে নতুন দুই তেজস যুদ্ধবিমানের?
শেষবারের মতো শোনা গিয়েছিল, হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা HAL আগামী মার্চ মাসের মধ্যে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে পাঁচ পাঁচটি উন্নত তেজস এমকে1 তুলে দেবে। ইতিমধ্যেই সেই যুদ্ধবিমানগুলি সম্পূর্ণ রূপে তৈরি হয়ে গিয়েছে বলেই খবর। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকটি যুদ্ধবিমানের ফায়ারিং এবং মিসাইল পরীক্ষাও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এবার শোনা যাচ্ছে, ওই সংস্থার হাত ধরে দুটি নতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির তেজস পাচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনা।
জানা গিয়েছে, ভারতীয় বায়ু সেনার জন্য যে দুটি নতুন তেজস যুদ্ধবিমান তৈরি করা হচ্ছে সেগুলি মূলত উন্নত AESA রাডার দ্বারা সজ্জিত থাকবে। সেই সাথে, ওই যুদ্ধইবিমানে থাকবে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট এবং দেশীয় অস্ত্রও। এখানেই শেষ নয়, ওড়ার সময় অনবোর্ড অক্সিজেন জেনারেশন সিস্টেম এবং আকাশেই রিফুয়েল করার ক্ষমতা থাকবে এই যুদ্ধবিমানের। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, তেজস এমকে 1 নতুন যুদ্ধবিমান দুটি ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে যোগ দেওয়ার আগে পর্যন্ত এর আপগ্রেডেশনের কাজ চলবে। এও শোনা যাচ্ছে, এই যুদ্ধবিমান এ থাকবে ইএম পিওডি, SDR এবং SATCOM এর সুবিধা।
যুদ্ধবিমানটিতে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার পড থাকার কারণে সেটি সহজেই শত্রুর নজর থেকে বাঁচার পাশাপাশি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বর্ণালী ব্যবহার করে শত্রুর রাডার এবং অস্ত্র ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করবে। ঠিক সেই সময়ের মধ্যেই শত্রুকে সনাক্ত করে জোরালো হামলা চালাতে পারবে এই বিমান। সব মিলিয়ে, পুরনো তেজস যুদ্ধবিমানের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে HAL এর নতুন দুই তেজ্স। আপাতত যা খবর, টানা দু’বছর হারানো দুই সঙ্গী তেজস যুদ্ধবিমানের বিকল্প হিসেবে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম যুক্ত বিশেষ যুদ্ধবিমান গুলিকে।
অবশ্যই পড়ুন: বিশ্বকাপে ভারতের ম্যাচ বয়কট করে নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মারল পাকিস্তান!
উল্লেখ্য, ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে এই মুহূর্তে অনুমোদিত 42টির পরিবর্তে মাত্র 29টি স্কোয়াড্রন রয়েছে। এদিকে মিগ 21 এর মতো বহু পুরনো যুদ্ধবিমানগুলি অবসর নিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য তৈরি হতে এখনই একাধিক যুদ্ধবিমান প্রয়োজন। মূলত সে কথা মাথায় রেখেই, HAL এর তরফে পেতে যাওয়া তেজস যুদ্ধবিমানগুলির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। সম্প্রতি মুখ খুলে সে কথা নিজেই জানিয়েছিলেন ভারতের এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং।