প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬-এর নির্বাচনের আবহে শাসক দল থেকে শুরু করে বিরোধী দল গুলির মধ্যে ব্যস্ততা দেখা গিয়েছে। এমতাবস্থায় SIR নিয়ে তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। যা নিয়ে শুরু থেকেই বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনারকে তীব্র আক্রমণ করে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক সহ একাধিক। অভিযোগ AI বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে নাকি ভোটার তালিকা থেকে ইচ্ছে করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের। আর এই অভিযোগের ভিত্তিতে নাম উঠে আসছে এক মহিলার নাম, তিনি হলেন সীমা খান্না (Seema Khanna)। অভিষেক থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর মুখেও উঠে এসেছে এই নাম। তাই প্রশ্ন উঠছে কে এই রহস্যময়ী সীমা খান্না?
SIR নিয়ে কমিশনকে আক্রমণ মমতার
রিপোর্ট মোতাবেক গতকাল অর্থাৎ সোমবার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অনেকে ছিলেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দপ্তরে ৩ মৃত বিএলওদের পরিবার এবং এসআইআর আতঙ্কে মৃত ৮ ব্যক্তির পরিজনদেরও নিয়ে গিয়েছেন মমতা। দীর্ঘক্ষণ চলে সেই বৈঠক। এরপর বৈঠক থেকে বেরিয়েই মমতা কমিশনকে ‘মিথ্যেবাদী, উদ্ধত’ তোপ দাগেন। শুধু তাই নয় সাংবাদিকদের সামনেই রহস্যময়ী সেই সীমা খান্নাকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ফের প্রশ্নের মুখে সীমা খান্না!
সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এখানে ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। AI দিয়ে সীমা খান্না এই কাজ করেছেন। উনি নির্বাচন কমিশনের কেউ নন। বিজেপির আইটি সেলের।’ এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে ওই মহিলার নাম উঠে এসেছিল। সেই সময় জানা গিয়েছিলেন কমিশনের তথ্য প্রযুক্ত শাখার ডিআইজি পদে রয়েছেন। কিন্তু তাতেও কৌতুহল থামছে না। সকলের মুখে শুধু একটাই প্রশ্ন শাসকদল বারংবার সীমা খান্নাকে যে কাঠগড়ায় তুলছে, কী তাঁর আসল পরিচয়। জানা গিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই এই সীমা খান্না নাকি বাংলায় এসেছিলেন। এমনকি সেই নিয়েও কম প্রশ্ন ওঠেনি।
আরও পড়ুন: সাতসকালে অ্যাকশনে ED! কয়লা, বালি কাণ্ডে ওসির বাড়ি সহ একাধিক জায়গায় হানা
কে এই সীমা খান্না?
জানা গিয়েছে, সীমা খান্না বিহারের বাসিন্দা। পাটনার নেতাজি সুভাষ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে স্নাতক পাশ করেন এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান দিল্লির একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। মাস্টার ডিগ্রি অর্জনের পর দিল্লি আইআইটি থেকে পিএইচডি করেন। ২০২১ সালে সীমা খান্নাকে জাতীয় তথ্যকেন্দ্রের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল হিসাবে নিয়োগ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। দীর্ঘদিন বিভিন্ন সংস্থায় তথ্য এবং সংযোগ বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেছেন সীমা। সর্বশেষ প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, প্রবণতা এবং ব্যবস্থাপনা ধারণাগুলির উপর ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রদানেও যুক্ত আছেন। শুধু তাই নয়, এও জানা যায়, সীমা দেবী নাকি করোনার সময় কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আরোগ্য সেতু’ অ্যাপ তৈরি করেছিলেন।