প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: SIR নিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্র সংঘাত যখন চরমে, তখন ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-র বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর এই মামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। এমতাবস্থায় সেই মামলা নিয়ে বড় আপডেট উঠে এল। জানা গিয়েছে, আগামীকাল অর্থাৎ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানির ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত হতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং সিইও-র বিরুদ্ধে মমতার করা মামলা।
আগামীকালই হবে মামলার শুনানি
দেশের সর্বোচ্চ আদালতের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল যে, চলতি সপ্তাহেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়ের করা মামলাটির শুনানি হতে পারে। এবার সেই শুনানি এগিয়ে আনা হয়। জানা গিয়েছে, কম্পিউটার জেনারেটেড আদালতে শুনানির তালিকায় দিন বদল করা হয়েছে। আগে যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর মামলায় ৬ ফেব্রুয়ারি দিন ছিল। তা বদলে ৪ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে এই মামলা। ফলে আগামিকালই কমিশনের বিরুদ্ধে মমতার করা মামলা উঠবে। অন্যদিকে আগামী বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে রাজ্যের এআইআর মামলার শুনানি রয়েছে।
পিছোবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন?
মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে, ভোটার তালিকায় লক্ষ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম রয়ে গিয়েছে। আবার অনেক নতুন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সেক্ষেত্রে এই ত্রুটিপূর্ণ তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন হলে তা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। তাই অবিলম্বে নির্বাচন কমিশন যে ভোটার তালিকা ব্যবহার করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা যাচাই করে সংশোধন করা। আর সেজন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দিতে হবে। এতেই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে তবে কি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন পিছবে? যদিও এবিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দাবি নির্ধারিত নিয়ম মেনেই শুনানি পর্বে তথ্য যাচাই মিটলেই, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। তাই আগামিকাল মামলার শুনানির কোন দিকে এগোয় তাই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
আরও পড়ুন: বালুরঘাট পুরসভায় কোষাগারে টানাটানি! বেতন, পেনশন পাবেনা ১৩০০ কর্মী?
প্রসঙ্গত, SIR প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে মোট ছ’টি চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি গতকাল, সোমবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে আবার তাঁকে চিঠি পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। সেই চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক আইনের বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। কিন্ত কমিশনের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি, এখন দেখার পালা সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি কী বলে।