রেলে নয়া বিপ্লব! সফল হল প্রথম LNG ডুয়াল ফুয়েল ট্রেনের ট্রায়াল, বাঁচবে বিপুল ডিজেল

LNG Train

সহেলি মিত্র, কলকাতা: অনেক হল হাইড্রোজেন, বুলেট, বন্দে ভারত ট্রেন। এবার খুব শীঘ্রই হয়তো দেশে ছুটতে পারে এলএনজি ট্রেন (LNG Train)। ইতিমধ্যেই ভারতীয় রেল (Indian Railways) এই ট্রেনের সফল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে বলে খবর। এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন এ আবার কী ধরণের ট্রেন? কবে থেকে চলবে? তাহলে বিশদে জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।

LNG ট্রেন আনছে ভারতীয় রেল

আসলে ভারতীয় রেলওয়ে হাইড্রোজেন ট্রেনের পাশাপাশি এখন পরিষ্কার, পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী রেল পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে। পশ্চিম রেলওয়ের আহমেদাবাদ বিভাগ দেশে প্রথমবারের মতো ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (DEMU) এর ড্রাইভিং পাওয়ার কার (DPC) তে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG)-ভিত্তিক দ্বৈত জ্বালানি ব্যবস্থা সফলভাবে গ্রহণ করেছে। ফলস্বরূপ, দেশের প্রথম LNG-চালিত DEMU ট্রেন এখন নিয়মিত পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।

LNG ট্রেনের বিশেষত্ব

এবার আসা যাক LNG ট্রেনের বিশেষত্ব সম্পর্কে। এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের আওতায়, ১৪০০ হর্সপাওয়ার ক্ষমতার দুটি ডিইএমইউ ডিপিসি ডিজেল + এলএনজি ডুয়েল ফুয়েল সিস্টেমে রূপান্তরিত করা হয়েছে।এতে, ডিজেলের পরিবর্তে প্রায় ৪০ শতাংশ পরিমাণে এলএনজি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই রূপান্তরিত ডিপিসিগুলিতে ২০০০ কিলোমিটারেরও বেশি সফল ফিল্ড ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা ছাড়াই নিয়মিত যাত্রী পরিষেবায় কাজ করছে। ইতিমধ্যে, আহমেদাবাদ ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) বেদ প্রকাশ সাবরমতিতে ডিইএমইউ শেড পরিদর্শন করেছেন এবং এলএনজি ভিত্তিক সিস্টেমের প্রস্তুতি, সুরক্ষা মান এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন।

ডিআরএম কর্মকর্তা এবং কারিগরি কর্মীদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং এই উদ্ভাবনকে ভারতীয় রেলের জন্য একটি “গেম চেঞ্জার” এবং গ্রিন রেলওয়ে মিশনের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।  এলএনজি ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিনের নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে – বিশেষ করে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂), নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) এবং কণা পদার্থ (PM), যার ফলে রেলপথের চারপাশে বায়ুর মান উন্নত হবে।

ডিজেলের তুলনায় এলএনজি সস্তা জ্বালানি

পরীক্ষার তথ্য অনুসারে, একটি ডিপিসি থেকে প্রতি বছর প্রায় ১১.৯ লক্ষ টাকা এবং একটি ৮-কোচের ডিইএমইউ রেক (২টি ডিপিসি) থেকে প্রতি বছর প্রায় ২৩.৯ লক্ষ টাকা সাশ্রয় করা যেতে পারে। জ্বালানির প্রাপ্যতা অনুসারে সহজেই ডিজেল এবং এলএনজির মধ্যে পরিবর্তন করা যেতে পারে, তাই কার্যক্রমে কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না। দ্বৈত জ্বালানি ব্যবস্থাটি প্রচলিত ডিজেল ইঞ্জিনের মতো ইঞ্জিনের শক্তি এবং নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ দক্ষিণবঙ্গে শীতের ব্যাটিংয়ের মাঝেই ২ জেলায় বর্ষণের সম্ভাবনা, আজকের আবহাওয়া

অনুমোদিত নকশা অনুসারে, প্রতিটি ডিপিসিতে আনুমানিক ২২০০ লিটার ধারণক্ষমতার (প্রায় ৯৫০-১০০০ কেজি ব্যবহারযোগ্য এলএনজি) একটি ট্যাঙ্ক রয়েছে। একবার পূর্ণ ভরাট করলে প্রতিদিন প্রায় ২২২ কিলোমিটার চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত এলএনজি পাওয়া যায়। রেল সূত্রে খবর, আরএসডিও কর্তৃক নির্গমন পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এই প্রযুক্তিটি বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারিত করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে, আরও আটটি ডিইএমইউ ডিপিসিকে এলএনজি দ্বৈত জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Leave a Comment