প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দিনের পর দিন গাধার মত খাটলেও বিগত কয়েক মাস ধরে মিলছিল না বেতন, এমনকি কাজ নিয়েও বেশ সংশয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন পরিবহন নিগমের এক ঠিকাকর্মী। শেষে অবসাদের জেরে বাড়ির ভিতরেই গলায় দড়ি দিলেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে হুগলীর উত্তরপাড়ায় (Uttarpara)। পুলিশে খবর দেওয়া হলে উদ্ধার হয়েছে ওই কর্মীর ঝুলন্ত দেহ! ময়নাতদন্তের জন্য শ্রীরামপুরের ওয়ালশ হাসপাতালে ওই কর্মীর দেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
আনন্দবাজারের রিপোর্ট মোতাবেক, বেতন না মেলায় এবং ঋণের বোঝা বাড়তে থাকায় গত সোমবার উত্তরপাড়ার ভদ্রকালীর ১৯ নম্বর শিবতলা লেনে শঙ্খঅগোস্তি নামের ৩১ বছরের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন। তাঁর বাড়িতে রয়েছে মা, স্ত্রী ও চার বছরের শিশুপুত্র। বছরখানেক ধরে তীব্র আর্থিক অনটনের কারণে বরাহনগরে বাবার বাড়িতে স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে নিয়ে থাকছিলেন শঙ্খ। পরিবারের সদস্য এবং সহকর্মীদের একাংশ জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন শঙ্খের বাবা কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরে ঋণ মেটানোর চাপ শঙ্খের উপরেই পড়ে তার উপর কর্মসংস্থানে বেতন না মেলার চাপ ছিল, আর তাতেই মানসিক অবসাদ বাড়তে থাকে এবং এই ভয়ংকর পদক্ষেপ নেন।
আর্থিক তছরুপের অভিযোগে বাতিল সংস্থা
আগে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের টিকিট বিক্রির দায়িত্বে ছিল একটি বেসরকারি সংস্থা। তাদের ধর্মতলা, আসানসোল, দুর্গাপুরের টিকিট বুকিং কাউন্টারে ওই বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা টিকিট বিক্রির কাজ করতেন। কিন্তু বছরখানেক আগে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের অভিযোগ ওঠে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে। যার ফলে ওই সংস্থাকে বাতিল করা হয়। এবং নতুন দরপত্র ডেকে নতুন সংস্থাকে কাজের বরাত দেওয়া হয়। যার ফলে বেশ চাপে পড়ে আগের সংস্থার কর্মীরা। তবে নতুন সংস্থায় আগের সংস্থার কর্মীরাও কাজের সুযোগ দেওয়া হবে জেনে ধর্মতলা, আসানসোল ও দুর্গাপুর এই তিন জায়গাতেই কাজ করছিলেন। কিন্তু কাজ করলেও মিলছিল না বেতন।
আরও পড়ুন: KMC-র তরফে দেওয়া ডমিসাইল সার্টিফিকেট নিয়ে বড় বিতর্ক
জানা গিয়েছে, ধর্মতলার কাউন্টার থেকে মাসে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রি হয়ে থাকে এবং কাজের চাপও বেশি হয়ে থাকে, কিন্তু তবুও এক বছরের বেশিসময় ধরে বেতন পাচ্ছেন না ২১ জন ঠিকা কর্মী। ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা, সংসার চালানো রীতিমত কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। সেখানকার এক কর্মী বলেন, ‘‘প্রায় ১০ বছর ধরে কাজ করছি। বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে। এই অবস্থায় এখন কোথায় যাব কাজের সন্ধানে?’’ এই প্রসঙ্গে SBSTC-র চেয়ারম্যান সুভাষ মণ্ডলকে ফোন করা হলে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।