সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সংখ্যালঘু শিক্ষা ব্যবস্থায় এবার বিরাট সংস্কারের পথে হাঁটল উত্তরাখণ্ড সরকার (Government of Uttarakhand)। রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা মাদ্রাসা বোর্ড বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিল ধামী সরকার। আগামী জুলাই ২০২৬ থেকে আর কোনও মাদ্রাসা বোর্ড কার্যকর থাকবে না বলে জানানো হয়েছে। এমনকি তার পরিবর্তে উত্তরাখণ্ড স্টেট মাইনরিটি এডুকেশন অথরিটি গঠন করা হচ্ছে। রাজ্যের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় রাজ্যের সমস্ত সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এক ছাতার নিচে আনা হবে এবং তাদের উত্তরাখণ্ড বোর্ড অফ স্কুল এডুকেশন স্বীকৃতি দেবে।
বিধানসভায় বড়সড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, রাজ্যের বিশেষ সচিব ডঃ পারাগ মাধুকর ঢাকাতে জানিয়েছিলেন, সম্প্রতি বিধানসভা অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, জুলাই মাস থেকে রাজ্যের সমস্ত সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুন শিক্ষা কর্তৃপক্ষের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হল সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
এদিকে নতুন গঠিত স্টেট মাইনরিটি এডুকেশন অথরিটি সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করবে। কোন বিষয়ে কীভাবে পড়ানো হবে, শিক্ষার মান কী রকম হবে, সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এই কর্তৃপক্ষ। আর সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, পাঠক্রম তৈরির জন্য বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ এবং অধ্যাপকদের নিয়োগ করা হবে, যাতে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও আধুনিক হয়।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শুনানিক্রমে রাখাই হল না মমতার মামলা! আদৌ আজ হবে সওয়াল-জবাব?
কারা থাকবেন শিক্ষা কর্তৃপক্ষে?
সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডঃ সুরজিৎ সিং গান্ধীকে এখানে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হবে। আর সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করা হচ্ছে অধ্যাপক রাকেশ জৈন, ডঃ সৈয়দ আলী হামিদ, অধ্যাপক পেমা তেনজিন, ডঃ এলবা মেদ্রিলে, অধ্যাপক রবিনা আমান, অধ্যাপক গুরমিত সিং প্রমুখকে। এর পাশাপাশি সমাজকর্মী রাজেন্দ্র বিস্ত এবং অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক চন্দ্রশেখর ভট্টকেও সদস্যপদে নিযুক্ত করা হচ্ছে। আর পদাধিকার বলে এই কর্তৃপক্ষের সদস্য থাকবেন উচ্চশিক্ষা দফতরের ডিরেক্টর, রাজ্য শিক্ষা গবেষণা, প্রশিক্ষণ পরিষদের ডিরেক্টর এবং সংখ্যালঘু কল্যাণ দফতরের ডিরেক্টর।