প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ছাগল চুরি করে হয়েছিল পিকনিক। জানতে পেরে ছাগলের মালিককে তা জানিয়ে দেন তপন মালিক নামে এক যুবক। সে জন্য খুন হতে হয়েছিল যুবককে। হুগলির (Hooghly) চুঁচুড়া থানার ওই ঘটনার পাঁচ বছর পর সাজা ঘোষণা করল আদালত। মঙ্গলবার দুই বন্ধুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করলেন বিচারক। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল মৃতের পরিবার।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক, ঘটনাটি ঘটেছিল ৫ বছর আগে। ২০২১ সালের ১২ জুলাইব হুগলির চুঁচুড়ার নন্দীর মাঠ এলাকায় কয়েক জন যুবক পিকনিক করছিলেন। অভিযোগ, প্রতিবেশীর ছাগল চুরি করে মাংস রান্না হয়েছিল সেখানে। আর এই চুরির কথা ছাগলের মালিককে তা বলে দিয়েছিলেন তপন মালিক নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা। ফলে সেই রাগ তপনের উপরে পরে এলাকার যুবকদের, তাঁকে রাস্তায় একা পেয়ে অনুপম দাস এবং অরুণ পাশোয়ান নামে দুই যুবক বেধড়ক মারধর করেন। পরে আবার তারাই তপনকে উদ্ধার করে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু তখনও বিপদ কাটেনি।
চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ
তপনের মা রীতা মালিকের অভিযোগ, ওই দিন রাতে ঠাকুমার সঙ্গে বাড়িতে ছিলেন তপন। সেসময় আবার তাদের বাড়িতে চড়াও হয় অভিযুক্তরা। না বলে তপনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যা। অভিযোগ সারা রাত বাড়ি ফেরেনি ছেলে। পরের দিন সকালে খোঁজখবর করতেই তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয় নন্দীর মাঠ এলাকা থেকে। এর পর পুচি দাস, বিট্টু দাস, অনুপম দাস এবং অরুন দাস— এই চার জনের নামে চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এরপরই তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ছাগল চুরি করে বন্ধুরা পিকনিক করেছিল। জানতে পেরে চুরির ঘটনার কথা ছাগলের মালিককে জানিয়ে দেন তপন। আর রাগের বশেই এই খুন।
আরও পড়ুন: আর অপেক্ষা করবে না TTE, সুবিধা হবে RAC বা ওয়েটিং টিকিটের যাত্রীদের! নয়া নিয়ম রেলের
পুলিশ তদন্ত করে গ্রেপ্তার করে পুচি দাস, বিট্টু দাস, অনুপম দাস এবং অরুন দাস এই চার অভিযুক্তকে। গতকাল চুঁচুড়া আদালতে এই চার অভিযুক্তকে পেশ করা হয়। কিন্তু অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজনের বিরুদ্ধে যথাযোগ্য প্রমাণ না থাকায় বিচারকে রিন্টু শূর তাঁদের মামলা থেকে মুক্তি দেয়। এই ঘটনায় আইনজীবী শংকর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, “চার জনের নামে অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্ত শেষে তদন্তকারী অফিসার ২০২১ সালের ৮ অক্টোবর চার্জশিট জমা দেন। ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জন ঘটনার সাক্ষ্য দেন। অভিযুক্ত অনুপম দাস ও অরুণ দাসকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ২০ হাজার টাকার জরিমানা ধার্য করেছেন। এবং আরও ৬ মাস সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।”