প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন, তার পরেই রাজ্য জুড়ে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে চলেছে। তাইতো এই সময় ছাব্বিশের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে প্রচারে ঝাঁপিয়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দল। একদিকে শাসকদল উন্নয়নের পাঁচালি নিয়ে জেলায় জেলায় ঘুরছে অন্যদিকে বিজেপিও নিজের মতো করে সভা-মিছিল করছেন। এমতাবস্থায় ফের বঙ্গ সফরে আসতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)।
ফের বঙ্গে আসছেন অমিত শাহ
উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি বঙ্গ বিজেপি নেতাদের সঙ্গে দলীয় বৈঠকে করতে কলকাতায় এসেছিলেন অমিত শাহ। রাতেই হোটেলে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে নিয়ে করেছিলেন বৈঠক। পরেরদিন সকালে ফের বারাকপুরে কর্মী সম্মেলন করে চলে গিয়েছিলেন শিলিগুড়ি। সেই সময় কর্মীদের দিয়েছিলেন একাধিক নির্দেশ। আর এই অবস্থার ফের কয়েকদিনের ব্যবধানে বঙ্গসফরে আসছেন শাহ। দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি ২ দিনের জন্য বঙ্গ সফরে আসবেন তিনি। তবে এবারেও করবেন না কোনও জনসভা।
এবারেও হবে না জনসভা
জানা গিয়েছে, অমিত শাহের এই বঙ্গ সফর মূলত সাংগঠনিক বৈঠক কেন্দ্রিক হতে চলেছে। কারণ ঐসময় রাজ্যে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলবে, তাই সেক্ষেত্রে মাইক বাজিয়ে সভার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই ওই সময় মূলত অমিত শাহ রাজ্যের নেতাদের সঙ্গে আগামী বিধানসভা ভোটের রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বারংবার এই বঙ্গ সফরে নিয়ে এদিকে একাধিক প্রশ্ন জাগছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের প্রশ্ন, তবে কি বঙ্গ ব্রিগেডের রণকৌশল বা সাংগঠনিক দক্ষতায় পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারছে না শীর্ষ নেতৃত্ব? যদিও এই নিয়ে বঙ্গ বিজেপির তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: ছাগল চুরি করে পিকনিক! দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল চুঁচুড়া কোর্ট
প্রসঙ্গত, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতে দিল্লিতে সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে বঙ্গ বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। প্রথম বৈঠকেই বঙ্গ বিজেপি সাংসদদের দলের রাজনৈতিক কৌশল ও সংগঠনের পারফরম্যান্স নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বানসাল, সহ-প্রভারী অমিত মালভিয়া, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ইলেকশন ইন-চার্জ ভূপেন্দ্র যাদব, ইলেকশন কো-ইনচার্জ বিপ্লব দেব, রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সব মিলিয়ে, এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট—বাংলায় বিজেপির রাজনীতি এবার আরও আক্রমণাত্মক ও আন্দোলননির্ভর পথে হাঁটতে চলেছে।