নবান্নের আপত্তি মানলই না কমিশন, জারি নির্দেশ

Nabanna

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে এক নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। প্রধান বিচারপতির এজলাসে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে নিজেই সওয়াল করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাধীনোত্তর ভারতে এই প্রথম কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এভাবে সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি যুক্তি তর্কের জাল বুনলেন। এমতাবস্থায় নবান্নের (Nabanna) আবেদন খারিজ করে স্বরাষ্ট্রসচিব সহ ২৫ জন অফিসারকেই ট্রেনিংয়ে ডাকল নির্বাচন কমিশন। আর তাতেই মাথায় হাত পড়ল রাজ্য সরকারের।

২৫ জন অফিসারকেই ট্রেনিংয়ে ডাকল কমিশন

রিপোর্ট মোতাবেক, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের ২৫ জন সিনিয়র অফিসারকে কেন্দ্রীয় অবজারভার হিসেবে নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করে কমিশন। ওই তালিকায় রয়েছেন রাজ্যের বর্তমান স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা-সহ ১৫ জন IAS এবং ১০ জন IPS আধিকারিক। আর এই ব্রিফিং বৈঠক ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের তরফে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যাঁদের নামে এই আবেদন জমা পড়েছিল, তাঁদের নির্ধারিত দিন ও সময়ে বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে হবে।

বিকল্প নাম প্রস্তাব করেন নবান্ন

নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের ব্রিফিং বৈঠক নিয়ে ঘোর আপত্তি তোলে নবান্ন। এবং নির্দেশনার পুনর্বিবেচনার জন্য আর্জি জানানো হয়। পাঠানো হয় আবেদনপত্র। বলা হয়, ভোটের মুখে শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের বাইরে পাঠানো হলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। কারণ তাঁরা এমনই গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে যে এদের ছাড়া পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হতে পারে। সেই কারণেই বিকল্প নাম প্রস্তাব করে মোট ১৭ জন আধিকারিককে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। কিন্তু মানল না কমিশন।

আরও পড়ুন: ছাব্বিশের লক্ষ্যেই এমাসেই ফের বাংলায় অমিত শাহ! কবে আসছেন?

কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের ট্রেনিং নিয়ে নবান্নের আবেদন পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের মতে এমন কোনও আর্জি তাঁরা মানবে না। তাই যাঁদের নাম তালিকায় উল্লেখিত হয়েছে, তাঁদের নির্ধারিত দিন ও সময়ে বৈঠকে অংশগ্রহণ করতেই হবে। তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের বক্তব্য” এটা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ। বিজেপি আড়াল থেকে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে। যে রাজ্যে নির্বাচন নেই সেখানে অফিসারদের অবজারভার করা যেত। কিন্তু বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে এই গেম প্ল্যান সাজাচ্ছে।” এবার দেখার পালা রাজ্য কমিশনের এই নির্দেশ কতটা গুরুত্ব সহকারে পালন করে।

Leave a Comment