সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি (India-US Trade Deal) নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে চলছে জোর চর্চা। তবে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক অবস্থান যে অনেকটাই কঠোর, এমনই ইঙ্গিত মিলল রিপোর্টে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের কাছে নত স্বীকার না করে প্রয়োজনে তাঁর গোটা প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদ পার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি ভারত। এমনটাই দাবি করছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের রিপোর্ট।
ডোভাল-রুবিও বৈঠক ঘিরেই জল্পনা
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্বাক্ষরিত হয়। আর সেই বৈঠকে ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, প্রকাশ্য সমালোচনা এবং চাপের রাজনীতিতে ভারত আর প্রভাবিত হবে না। প্রয়োজন হলে ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত রাখা যেতে পারে। তবে বৈঠকটি ব্যক্তিগত পর্যায়ে হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বলাবাহুল্য, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় রফতানির উপর মোট ৫০% শুল্ক আরোপ করেছিল, যা বিশ্বের মধ্যে সবথেকে বেশি বলেই দাবি। এহেন পরিস্থিতিতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের উপর দিনের পর দিন চাপ বাড়ে। বিশেষ করে কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্য রফতানিতে ভারত মুখ থুবড়ে পড়েছিল। তবে ব্লুমবার্গের রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, বৈঠকে ডোভাল নাকি স্পষ্ট বলেন, ভারত অতীতেও মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থান সামলে এসেছে। তাই বর্তমানেও কোনওরকম নত স্বীকার করবে না। এছাড়া ভারত চেয়েছিল ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা যেন প্রকাশ্যে ভারতের সমালোচনা কমায়।
পাশাপাশি রিপোর্ট বলছে, বৈঠকের পর ট্রাম্প কিছুটা সুর নরম করেন। এমনকি সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ফোন করে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা জানান। তবে ওই বৈঠকের আগে ট্রাম্প শিবিরের একাধিক মন্তব্যে শুরু হয় বিতর্ক। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাও ভারতকে সমালোচনা করতে ছাড়ে না। তারপর রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়েও কড়া আক্রমণ শানান। পাশাপাশি মোদীর ধর্মীয় প্রতিকৃতির ছবি ব্যবহার করেও সমালোচনা করেন। এহেন পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে ঠেকে।
আরও পড়ুন: DA মামলায় বড় জয় সরকারি কর্মীদের, এখনই ২৫% দিতে হবে! নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
২০২৯ অবধি অপেক্ষা?
যেহেতু মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেয়াদ রয়েছে চার বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৯ সালে তাঁর মেয়াদ শেষ হবে, সেক্ষেত্রে ভারত যদি সত্যিই অপেক্ষার কৌশল নেয়, তাহলে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলেই মত প্রকাশ কূটনৈতিক মহলের। এখন দেখার ভবিষ্যতে কী হয়।