বাজেটে বড় ঘোষণা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৫০০ টাকা বাড়াল রাজ্য সরকার, কবে থেকে মিলবে?

Bengal Budget 2026

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে আর বেশি দিন বাকি নেই। তার আগেই আজ রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ‌্যায়ের নেতৃত্বে চলা তৃতীয় সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেট (Bengal Budget 2026) পেশ হল। ভোটের আগে এটাই শেষ রাজ্য বাজেট। তাই সেক্ষেত্রে যে সাধারণের জন্য বড় চমক থাকবে এটাই কল্পনা করেছিল সকলে, এবার সেই কল্পনায় বাস্তবের রূপ নিল। রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বাড়ানো হল অর্থের পরিমাণ। খুশিতে ডগমগ রাজ্যের মহিলারা।

বাড়ল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অর্থের পরিমাণ

রিপোর্ট মোতাবেক অন্তর্বর্তী বাজেট ঘোষণায় মহিলাদের জন্য দারুণ চমক আনল রাজ্য সরকার। অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করে জানিয়েছেন যে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে মাসে ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হল উপভোক্তাদের জন্য। অর্থাৎ এই প্রকল্পে তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা এত দিন যে ১২০০ টাকা করে ভাতা পেতেন, তা বেড়ে হচ্ছে ১৭০০ টাকা। এবং বাকি মহিলাদের ক্ষেত্রেও ভাতা ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হল ১৫০০ টাকা। অর্থাৎ, ভোটের ঠিক আগেই লক্ষ্মীলাভ হল। যদিও এই চমককে অন্য চোখে দেখছে রাজনীতিবিদরা। তাঁদের মতে ভোটের মুখে এই বৃদ্ধি আসলে মমতার মাস্টারস্ট্রোক।

মহিলা ভোট ব্যাংক বৃদ্ধিতেই চমক

রাজ্য প্রকল্পের ভাতা নিয়ে বিরোধীদের একাংশ রাজ্য সরকারকে বারবার কটাক্ষ করে গিয়েছে। কিন্তু কোনো বিতর্কে কান না দিয়ে এবার সেই সরকারি ভাতার উপরেই জোর দিল রাজ্য সরকার। বাড়িয়ে দেওয়া হল ৫০০ টাকা। উল্লেখ্য, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে লক্ষ্মীর ভান্ডারের ঘোষণা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘোষণাকে এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে কাজে লাগাল তৃণমূল। আসলে ২৬-এর ভোটের আগে মহিলা ভোট ব্যাংকের অঙ্ক বাড়াতেই এই উদ্যোগ।

আরও পড়ুন: “আমরা কোর্টেও জিতি ভোটেও জিতি..” বাজেট পেশের আগে শুভেন্দুকে আক্রমণ মমতার

প্রসঙ্গত, বাংলার অন্তর্বর্তী বাজেটে লক্ষীর ভান্ডারে টাকা বৃদ্ধি করাকে বিরোধী শিবির ‘ভোটের চমক’ বলে কটাক্ষ করছেন। তবে শাসকদলের মতে, যেখানে বর্তমানে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম, ঠিক সেই সময় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে এই ৫০০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের পকেটে স্বস্তি দেবে বলেই মনে করছে শাসকদল। তাই বলা যায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের এই অর্থবৃদ্ধি রাজ্যের মহিলাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা নেবে।

Leave a Comment