বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: শত্রুর গতিবিধির উপর নজর রেখে বিগত দিনগুলিতে চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডোরে ক্রমাগত সেনা সংখ্যা বাড়িয়ে গিয়েছে ভারত। শিলিগুড়ি করিডোর লাগোয়া অঞ্চলে মাটির নিচ থেকে 40 কিলোমিটার স্ট্যাটেজিক রেল করিডোর গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল মন্ত্রক (Indian Railways On Chicken’s Neck)। রেলের বিশেষ প্রকল্পের অধীনে মাটির উপরে চারটি এবং নিচে দুটি রেললাইনের মাধ্যমে উত্তর পূর্বের সাথে দেশের অন্যান্য অংশকে যুক্ত করা যাবে। এবার এই স্ট্র্যাটেজিক রেল করিডোরের পর আরেক ধাপ এগলো রেলমন্ত্রক।
জানা যাচ্ছে, ভারত-ভুটান, বাংলা এবং অসম দুই দিক থেকে রেলপথ জুড়তে চলেছে। কার্যত মাকড়সার জালের মতোই মুড়ে ফেলা হবে উত্তর পূর্বাঞ্চলকে। নেপালের পর ভুটানের সাথে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা জুড়ে দেওয়ার পাশাপাশি সিকিমকেও রেলপথে সংযুক্ত করবে রেলমন্ত্রক। জাতীয় প্রতিরক্ষার স্বার্থে ইতিমধ্যেই মিজোরামের রেল নেটওয়ার্ককে যুক্ত করা হয়েছে। এদিকে মনিপুরের প্রকল্প বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে চালু হয়েছে সেটিও।
চিকেনস নেক বাঁচাতে বিরাট মাস্টার স্ট্রোক ভারতের
কেন্দ্রীয় বাজেটে 2026-27 আর্থিক বছরে যোগাযোগ এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে উত্তর পূর্বাঞ্চলে অন্তত 11 হাজার 486 কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেই জানিয়ে দেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রেলমন্ত্রীর কথায়, কেন্দ্রের প্রধান প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে ভারত এবং ভুটানের মধ্যে বানারহাট-সামতসে লিঙ্কের মাধ্যমে উন্নত রেল যোগাযোগ এবং কোকরাঝাড় থেকে গেলেফু রেল ব্যবস্থা।
সরকারি সূত্র মারফত খবর, কোকরাঝাড় থেকে গেলেফু এবং বানারহাট থেকে সামতসের মধ্যে যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাতে দেশের অর্থনৈতিক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা যাবে। এই বিশেষ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার হাত ধরে সহজে সিমেন্ট থেকে শুরু করে পাথর সহ অন্যান্য খাদ্যপণ্য এবং কাঠের পণ্য শিলিগুড়ি, গুয়াহাটি এমনকি কলকাতা সহ বাইরের বাজারে রপ্তানি করা যাবে।
ভারতীয় রেল সূত্রে খবর, অসমের কোকরাঝাড় থেকে ভুটানের গেলেফু স্টেশন পর্যন্ত যে 69 কিলোমিটার রেল প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী তিন বছরের মধ্যেই ওই লাইনে ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। তবে অন্য আরেকটি প্রকল্প অর্থাৎ বানারহাট থেকে সামতসের কাজ রেলপথ তৈরির জন্য জমি অধিগ্রহণ জটে আটকে। তবে আশা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই সেই সমস্যাও মিটবে।
এ নিয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের প্রধান প্রশাসনিক কর্তা হিতেন্দ্র গোয়েল জানিয়েছেন, “আমরা আশা রাখি অসমের দিক থেকে যে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে তা আগামী তিন বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তবে বাংলায় 20 কিলোমিটার দীর্ঘ বানারহাট-সামতসের রেল সংযোগ গড়ে তোলার জন্য জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সমস্যা রয়েছে।”
রেলের তরফে যা খবর, ডুয়ার্সের বানারহাট থেকে ভুটানের সামতসে স্টেশন পর্যন্ত ছুটবে ট্রেন। ডুয়ার্স থেকে মাত্র 20 কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করবে ট্রেনটি। অন্য আরেকটি প্রকল্প অর্থাৎ অসমের কোকরাঝাড় থেকে গেলেফুর মধ্যে 69 কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করবে ট্রেন। রেলের বিশ্বাস, প্রথম প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে ভারত এবং ভুটানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়বে। একই সাথে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে। এখানেই শেষ নয়, স্ট্যাটেজিক রেল প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে চিকেনস নেকের নিরাপত্তা অনেকটাই মজবুত হবে বলেই মনে করছে রেল। এই প্রকল্পে ভুটানের ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব জুড়ে যাবে ভারতের সাথে।
অবশ্যই পড়ুন: ১০০০ টাকা বেতন বৃদ্ধি সহ আরেকটি উপহার, সিভিকদের জন্য বড় ঘোষণা বাজেটে
প্রসঙ্গত, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব জানিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে দুটি রেল প্রকল্পের কাজ জোর কদমে চলছে। এগুলি শেষ হয়ে গেলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অনেকটাই জোরদার হবে। এদিকে বিশেষ রেল প্রকল্প নিয়ে ভারতের পদক্ষেপে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত ভুটান প্রশাসন।